সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন অপরিশোধিত (ক্রুড অয়েল) খালাস শুরু হয়েছে। বুধবার (৬ মে) রাত থেকে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় নোঙর করা ট্যাংকার জাহাজ থেকে ছোট লাইটার জাহাজে করে এ অপরিশোধিত তেল খালাস করা হচ্ছে। ট্যাংকার জাহাজ থেকে ক্রুড অয়েল নিয়ে প্রথম লাইটার জাহাজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টায় জেটিতে পৌঁছে।
উৎপাদন পুনরায় শুরু
শুক্রবার (৮ মে) দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে উৎপাদন পুনরায় শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর দীর্ঘ দুই মাস পর বিকল্প পথে এই এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে দেশে পৌঁছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। বুধবার দুপুরে জাহাজটি ক্রুড অয়েল নিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় নোঙর করে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ট্যাংকার জাহাজ “এমটি নিনেমিয়া” বুধবার কুতুবদিয়ায় পৌঁছেছে। এই জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নয়; লোহিত সাগর উপকূল হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। রাতেই ওই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে তেল খালাস শুরু হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় তেল নিয়ে প্রথম লাইটার জাহাজ জেটিতে ভিড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্রুড অয়েল সংকটে বন্ধ হওয়া ইস্টার্ন রিফাইনারি শুক্রবার থেকে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে তিনটি লাইটার জাহাজ তেল খালাস সম্পন্ন করতে হবে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল লোড করার শিডিউল আছে।’
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বুধবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রামে এসেছে ট্যাংকার জাহাজ “এমটি নিনেমিয়া”।’
ইস্টার্ন রিফাইনারি কারখানা সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে গত ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয় ট্যাংকার জাহাজটি। এটি কুতুবদিয়ায় পৌঁছে বুধবার দুপুর ১২টায়। এরপর মধ্যরাত থেকে শুরু হয় তেল খালাস। তেলের এ চালানের মাধ্যমে কাঁচামালের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি আবার উৎপাদনে ফিরবে। যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই মাস পর হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে লোহিত সাগর দিয়ে আমদানি হয়েছে এ তেলের চালান।
জ্বালানি চাহিদা ও পরিশোধন
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা আছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ পরিশোধন হয় চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়েছিল। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এরপর অপরিশোধিত তেলের কোনও জাহাজ দেশে আসেনি। এরই মধ্যে এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত একটি মাদার ভেসেল সৌদি আরবের রাস তানুয়া বন্দরে আটকা পড়ে। এমটি নর্ডিক পলাঙ নামের জাহাজটি গত ২ মার্চ সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই সেটিতে তেল লোড করা হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখনও বন্দরে নোঙর করে আছে। ২১ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী ধান্না বন্দর থেকে আরেকটি জাহাজ তেল নিয়ে বাংলাদেশে আসার শিডিউল ছিল। সেটিতেও এক লাখ মেট্রিক টন তেল আনার কথা ছিল। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেটিরও শিডিউল বাতিল করা হয়।
এ অবস্থায় ক্রুড অয়েলের অভাবে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি। ১৫ এপ্রিল থেকে প্রতিষ্ঠানটির জোন-১ ও ২ ইউনিটের পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ দুটি ইউনিটে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিন পরিশোধন করা হতো। বর্তমানে জোন-৩ ইউনিটে বিটুমিনের পাশাপাশি সামান্য পরিমাণে পেট্রোল ও অকটেন পরিশোধনের কাজ চলছে।



