পাকিস্তান ইরানের জন্য নতুন ট্রানজিট রুট খুলে দিয়েছে
পাকিস্তান ইরানের জন্য নতুন ট্রানজিট রুট খুলে দিল

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের মুখে ইরানের আমদানি ব্যবস্থা সচল রাখতে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তান। নিজের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশ থেকে পণ্য আমদানির জন্য ইরানের জন্য নতুন ট্রানজিট রুট খুলে দিয়েছে ইসলামাবাদ।

নতুন ট্রানজিট রুট ঘোষণা

শনিবার পাকিস্তানের সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন ট্রানজিট রুটের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করাচি, পোর্ট কাসিম এবং গোয়াদর বন্দরসহ পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম বেলুচিস্তান প্রদেশের সীমান্ত ক্রসিংগুলোর সংযোগ স্থাপনের জন্য ছয়টি নতুন রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘোষণাটি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়েছে।

এই নতুন নীতি ইরানের পণ্যবাহী কার্গোগুলোকে কোনও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়াই দ্রুত পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতে সাহায্য করবে। এটি একদিকে যেমন ইরানকে পণ্য সরবরাহে বড় স্বস্তি দেবে, অন্যদিকে পাকিস্তানকেও একটি আঞ্চলিক ট্রানজিট রুট হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং ইরানসহ আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের বিকল্প রুট

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে পারস্য উপসাগরের রুটগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ায় ইরান এখন খাদ্য আমদানির জন্য কাস্পিয়ান সাগরের দিকে ঝুঁকছে। দেশটির খাদ্য সরবরাহকারীরা এখন আমদানি করা পণ্যগুলো কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে নিয়ে আসার নতুন রুট তৈরি করছেন, যাতে দেশের খাদ্য সরবরাহ সচল থাকে।

ইরানের ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান মোহাম্মদ রেজা মোর্তজাভি সোমবার এ বিষয়ে বলেন, বিকল্প আমদানি রুটগুলো এখন অপরিহার্য পণ্যের সাপ্লাই চেইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, তবে এই পরিস্থিতি বজায় রাখতে সতর্ক পরিকল্পনা প্রয়োজন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উল্লেখ্য, কাস্পিয়ান সাগর বিশ্বের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ জলাশয় এবং ইরানের উত্তরের উপকূলরেখা প্রায় ৪৩০ মাইল (৭০০ কিলোমিটার) বিস্তৃত। ইরান মূলত শস্য ও ভোজ্যতেলের মতো প্রধান খাদ্যপণ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। মার্কিন অবরোধের কারণে ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে পণ্য আনা-নেওয়া করতে না পারায় কাস্পিয়ান সাগরকেই এখন প্রধান বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে।