তৈরি পোশাকের পাশাপাশি দেশের রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বড় ধরনের সাফল্য পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি আম মৌসুমেই মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের তাজা আম। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে মালয়েশিয়ার কৃষি বিভাগের দুই সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আগামী ৭ থেকে ১৩ জুন ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সফর করবে। তারা দেশের বিভিন্ন আম উৎপাদন এলাকা, প্যাকিং ব্যবস্থা এবং রফতানি-প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল
মঙ্গলবার (২ জুন) কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের দীর্ঘ তিন বছরের নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং বাংলাদেশ সরকারের সক্রিয় উদ্যোগের ফলে এই সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর ২০২৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি তাজা আম রফতানির সুযোগ তৈরিতে কাজ করে আসছে।
এই প্রক্রিয়া সচল রাখতে হাইকমিশন বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ‘রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেছে। মালয়েশিয়ার কৃষি বিভাগের কঠোর চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানসহ ‘পেস্ট রিস্ক অ্যানালাইসিস’ (পিআরএ) রিপোর্ট সফলভাবে প্রেরণ করা হয়েছে।
পরিদর্শনের প্রস্তুতি
বাংলাদেশ সরকারের এই সক্রিয় ভূমিকার ধারাবাহিকতায় গত ফেব্রুয়ারি (২০২৬) মাসে মালয়েশিয়ার কৃষি বিভাগ বাংলাদেশের আম বাগান এবং তাজা ফল প্যাকিং সুবিধাগুলোতে নিয়ম-কানুন যাচাইকরণ (ভিওসি) পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়। মালয়েশিয়ান সরকারের কঠোর কোয়ারেন্টাইন নিয়মানুযায়ী, তাজা আম আমদানির জন্য কীটপতঙ্গ ঝুঁকি বিশ্লেষণ (পিআরএ) সম্পন্ন করার পূর্বশর্ত হিসেবে এই ‘ভিওসি’ পরিদর্শন অত্যন্ত অপরিহার্য।
মালয়েশিয়ার এই প্রস্তাবে বাংলাদেশ সরকার তাৎক্ষণিক সম্মতি জানায় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলো পরিদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই রাষ্ট্রীয় পরিদর্শনের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’।
সম্ভাবনার দ্বার
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন, মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের এই পরিদর্শনে প্রয়োজনীয় মান ও নিরাপত্তা শর্ত (ফাইটোস্যানিটারি কমপ্লায়েন্স) পূরণ করা সম্ভব হলে চলতি মৌসুমেই মালয়েশিয়ার মানুষ বাংলাদেশের সুস্বাদু আমের স্বাদ নিতে পারবেন।
কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, মালয়েশিয়ার মতো একটি বড় ও সম্ভাবনাময় বাজারে যদি বাংলাদেশের আমের প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত হয়, তবে তা ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার (আসিয়ান অঞ্চল) অন্যান্য দেশগুলোতেও আম রফতানির সুযোগ সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।



