১৪ বছর পর এভারেস্ট অভিযানে বাংলাদেশি নারী নুরুন্নাহার নিম্নি, ১১ এপ্রিল ঢাকা ছাড়বেন
এভারেস্ট অভিযানে নুরুন্নাহার নিম্নি, ১১ এপ্রিল ঢাকা ছাড়বেন

১৪ বছরের বিরতি ভেঙে এভারেস্ট অভিযানে বাংলাদেশি নারী নুরুন্নাহার নিম্নি

বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনার অপেক্ষায় রয়েছেন নুরুন্নাহার নিম্নি। ২০১২ সালে নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীন এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করার পর দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে কোনো বাংলাদেশি নারী এই চ্যালেঞ্জিং অভিযানে অংশ নেননি। এবার সেই দীর্ঘ বিরতি ভাঙতে চলেছেন নুরুন্নাহার নিম্নি, যিনি আগামী ১১ এপ্রিল ঢাকা থেকে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেবেন।

এভারেস্ট অভিযানের বিস্তারিত পরিকল্পনা

নুরুন্নাহার নিম্নি তার এভারেস্ট যাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি প্রথমে কাঠমান্ডু হয়ে লুকলা পৌঁছাবেন, এরপর সেখান থেকে এভারেস্ট বেসক্যাম্পে যাবেন। নেপালের ‘এইটকে এক্সপেডিশন’-এর সঙ্গে তার এই অভিযান প্রায় ৫০ দিন স্থায়ী হবে। সাধারণত মে মাসের ১৫ থেকে ২৩ তারিখের মধ্যে শৃঙ্গে আরোহণের চেষ্টা করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

কিভাবে শুরু হলো এভারেস্টের স্বপ্ন?

এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন কবে থেকে দেখছেন—এ প্রশ্নের জবাবে নিম্নি বলেন, “২০০৬ সালের কথা। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে প্রথম বর্ষে পড়ি। ফিল্ডওয়ার্কে সীতাকুণ্ডে গিয়েছিলাম। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের ওপর উঠে মনে হয়েছিল, আমি যেন এভারেস্টে উঠেছি! সেখান থেকেই পাহাড়ের প্রতি আলাদা টান তৈরি হয়।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বেশির ভাগ সময়ই বান্দরবানের পাহাড়ে ঘুরেছি। আমার বাড়ি রংপুরে; তবে ছুটিতে যতবার না বাড়ি গেছি, তার চেয়ে বেশি গেছি পাহাড়ে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চাকরিজীবনেও অটুট পাহাড়ের টান

চাকরিজীবনে যুক্ত হলেও পাহাড়ের প্রতি তার টান কমেনি বরং আরও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন নিম্নি। তিনি বলেন, “ভুটানের পাহাড়, ভারতের সিকিমের পাহাড়, এরপর নেপাল। ২০১৯ সালে নেপালের অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্পে ঘুরে এসে মনে হলো, আরও উঁচুতে যাওয়া দরকার। পরের বছর এভারেস্ট বেসক্যাম্প ট্রেক করি। সেই অভিজ্ঞতা আমাকে নতুন করে ভাবায়। তখনই বুঝি, শুধু ট্রেকিং নয়, পর্বতারোহণে সিরিয়াসভাবে এগোতে হবে। এরপরই প্রশিক্ষণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।”

নুরুন্নাহার নিম্নির এই অভিযান শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং এটি বাংলাদেশের নারীশক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার সফলতা দেশের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা যায়।