ঠাকুরবাড়িতে ছোট-বড় সবারই পালোয়ানের কাছে কুস্তি লড়া ছিল বাধ্যতামূলক। ফলে ছোট রবিকেও কুস্তি লড়তে হতো। সেটা তাঁর মায়ের পছন্দ ছিল না। বাকিটা না হয় তাঁর মুখ থেকেই শোনা যাক, 'সকালবেলায় রোজ এত করে মাটি ঘেঁটে আসা ভালো লাগত না মায়ের, তাঁর ভয় হতো ছেলের গায়ের রং মেটে হয়ে যায় পাছে। তার ফল হয়েছিল, ছুটির দিনে তিনি লেগে যেতেন শোধন করতে। শোধনক্রিয়ার সামগ্রী হিসেবে থাকত বাদাম-বাটা, সর, কমলালেবুর খোসা, আরও কত কী...।'
কুস্তির বাধ্যবাধকতা
ঠাকুরবাড়ির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সদস্যকে প্রতিদিন কুস্তি অনুশীলন করতে হতো। ছোট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তবে তাঁর মা সারদা দেবী এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন।
মায়ের উদ্বেগ
মায়ের মনে হতো, মাটি ঘেঁটে কুস্তি লড়লে ছেলের গায়ের রং কালো হয়ে যেতে পারে। তাই তিনি ছুটির দিনে বিশেষ শোধনক্রিয়া করতেন।
শোধনক্রিয়ার উপকরণ
এই শোধনক্রিয়ায় ব্যবহার করা হতো বাদাম-বাটা, সর, কমলালেবুর খোসা এবং আরও অনেক প্রাকৃতিক উপাদান। মা বিশ্বাস করতেন, এসব উপকরণ ছেলের ত্বকের স্বাভাবিক রং ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
রবীন্দ্রনাথের শৈশবের এই স্মৃতি তাঁর আত্মজীবনী ও অন্যান্য রচনায় উল্লেখ রয়েছে, যা ঠাকুরবাড়ির দৈনন্দিন জীবন ও পারিবারিক রীতিনীতির একটি চিত্র তুলে ধরে।



