যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাটা ফেলেছে ফোলারিন বালোগুনের বিতর্কিত লাল কার্ড। বসনিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করলেও রেফারিংয়ের ‘দ্বিমুখী নীতি’ নিয়ে উঠেছে তীব্র প্রশ্ন।
বালোগুনের লাল কার্ড ও পচেত্তিনোর ক্ষোভ
বুধবার (১ জুলাই) বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়ার তারিক মুহারেমিভিচের ডান গোড়ালিতে বালোগুনের বুটের স্টাড লেগে যায়। মাঠের রেফারি রাফায়েল ক্লাউস প্রথমে কোনো কার্ড না দেখালেও ভিএআর হস্তক্ষেপে ভিডিও রিভিউ দেখে সরাসরি লাল কার্ড দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হেড কোচ মরিসিও পচেত্তিনো ম্যাচ শেষে বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না। প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য থাকলে আমি মেনে নিতাম। ফুটবলে বল দখলের লড়াইয়ের সময় পা নিচে নামার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ছিল এটি।’
মেসির ফাউল ও দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ
বালোগুনের লাল কার্ডের পর সামাজিক মাধ্যমে ফিফার ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির অনুরূপ ফাউলে কোনো কার্ড না দেওয়ার উদাহরণ টেনেছেন ভক্তরা।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ অধিনায়ক ঈসা মান্দির কাছ থেকে বল কেড়ে নিতে গিয়ে পেছন থেকে ট্যাকল করেন মেসি। তাঁর পা সরাসরি মান্দির ডান কাফ ও অ্যাকিলিস টেন্ডনে আঘাত করে। পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক ফাউলের বাঁশি বাজালেও মেসিকে কোনো কার্ড দেখাননি। ভিএআর টিমও অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দেয়নি।
এবার বালোগুনকে একই ধরণের ফাউলের জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেওয়ায় ফিফার ‘দ্বিমুখী নীতি’ ও ‘দ্বিমুখী রেফারিং’-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সমর্থকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের জয় ও পরবর্তী চ্যালেঞ্জ
বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের নেতৃত্বে বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বালোগুনের লাল কার্ডের কারণে আগামী সোমবার (৬ জুলাই) বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ১৬-র ম্যাচে তিনি নিষিদ্ধ। নিয়ম অনুযায়ী এই সাসপেনশনের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই।



