চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ডালাসে মিসর-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে মিসরের রাইটব্যাক মোহামেদ হানি আত্মঘাতী গোল করেন, যা ছিল টুর্নামেন্টের ১৩তম আত্মঘাতী গোল। এর মাধ্যমে ২০১৮ বিশ্বকাপের ১২ গোলের রেকর্ড ভেঙে যায়। এরপর মায়ামিতে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের ১১১ মিনিটে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেস আরেকটি আত্মঘাতী গোল করলে সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪।
রেকর্ড ভাঙার পেছনে কারণ
এবার প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, ফলে ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে ১০৪টি হয়েছে (পূর্ববর্তী আসরে ৬৪টি)। বেশি ম্যাচ মানে আত্মঘাতী গোলের সম্ভাবনাও বেশি। এখন পর্যন্ত ৮৮ ম্যাচে ১৪টি আত্মঘাতী গোল হয়েছে।
কারিগরি ও কৌশলগত পরিবর্তন
টেলিভিশন ফুটেজের উন্নতি, ভিএআর রিপ্লে ও ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ায় এখন গোল কে করেছেন তা নির্ধারণে দ্বিধা থাকে না। ফলে ডিফেন্ডারদের আত্মঘাতী গোল এড়ানোর সুযোগ কমে গেছে। আক্রমণের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। আগে বক্সের কোণা থেকে ক্রস বেশি দেওয়া হতো, কিন্তু এখন খেলোয়াড়রা বাইলাইন পর্যন্ত গিয়ে আড়াআড়ি বল বাড়ান, যা ডিফেন্ডারদের নিজেদের গোলপোস্টের দিকে ছুটতে বাধ্য করে। এতে বল গায়ে লেগে বা হেড করতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বেলজিয়াম ও মিসরের বিপক্ষে হানির দুটি আত্মঘাতী গোলই এ ধরনের।
ভুল ও রক্ষণাত্মক কৌশলের প্রভাব
কিছু আত্মঘাতী গোল স্রেফ ভুলের কারণে হয়েছে। গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ের বোবাদিলা ও অস্ট্রেলিয়ার বার্হেসের গোলগুলো তৎপরতার অভাবে হয়েছে। অন্যদিকে, ‘লো ব্লক’ রক্ষণাত্মক কৌশলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাও আত্মঘাতী গোল বাড়াচ্ছে। ছোট দলগুলো বড় দলের বিপক্ষে নিজেদের গোলপোস্টের কাছে জটলা তৈরি করে, যেখানে ক্রস যে কারও পায়ে লেগে জালে জড়ানোর আশঙ্কা থাকে। গ্রুপ পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে ইরাকের আয়মান হুসেইনের আত্মঘাতী গোলটি এমনই।
সামনের পথ
এখনো শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল বাকি। আত্মঘাতী গোলের এই রেকর্ড কোন উচ্চতায় গিয়ে থামে, সেটাই দেখার অপেক্ষা।



