প্রতিপক্ষের ওপর নজর রাখা: ফুটবল কৌশলের অঙ্গ
বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রতিপক্ষের ওপর নজর রাখা একটি প্রচলিত কৌশল। উরুগুয়ের কোচ মার্সেলো বিয়েলসা তো এই কাজকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। ইংলিশ ক্লাব লিডস ইউনাইটেডের কোচ থাকাকালীন তিনি প্রতিপক্ষের অনুশীলনে ড্রোন পাঠাতেন। তার মতে, প্রতিপক্ষের কৌশল না জানলে ম্যাচের প্রস্তুতি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
ক্লোজড-ডোর অনুশীলন ও নিরাপত্তা
প্রতিটি দলই অনুশীলনের বড় অংশ ক্লোজড-ডোর বা রুদ্ধদ্বার মাঠে করে, যেখানে মিডিয়া বা দর্শকদের প্রবেশাধিকার নেই। অনুশীলনের প্রথম ১০-১৫ মিনিট গা গরম করার সময় মিডিয়ার ক্যামেরা সচল থাকে, তারপর আসল কৌশল শুরু হয়। ২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের টিম ক্রুলকে দিয়ে টাইব্রেকার ঠেকানোর প্রস্তুতি বা ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিখ্যাত ফ্রি-কিক রুটিন—কোচ লুই ফন হাল এসব কৌশল কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই অনুশীলন করিয়েছিলেন।
ফিফার নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তি
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, অন্য দলের ওপর নজরদারি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই মৌসুমেই প্রতিপক্ষের ওপর নজর রাখায় ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ প্লে-অফ থেকে সাউদাম্পটনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে বিয়েলসার কাণ্ডের কারণে লিডসকে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপে নজরদারি নিয়ে ফিফার অবস্থান আরও কঠোর। অনুশীলনের মাঠগুলোকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই জেল-জরিমানার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বকাপের মাঠের পাশে ড্রোন পাওয়া গেলে ১ লাখ ডলার জরিমানার পাশাপাশি ১ বছরের জেলের বিধান রাখা হয়েছে।
গোয়েন্দাগিরি আটকানো কি সম্ভব?
তবে জেল-জরিমানার ভয় দেখিয়ে গোয়েন্দাগিরি আটকানো যায় কি? অনেক অনুশীলন মাঠের আশপাশে উঁচু ভবন থাকে, সেখান থেকে অনুশীলন দেখা কঠিন নয়। গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার অনুশীলনের সময় মাঠের ওপর দিয়ে একটি ড্রোন উড়ে গিয়েছিল। টের পেয়েই সেটি ভূপাতিত করে মেক্সিকান সেনাবাহিনী। তবে সেই ড্রোনটি কোন দলের ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কোচদের সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো অনুশীলনের আগে ভীষণ সতর্ক ছিলেন। দলের অনুশীলনের আগে মাঠের পাশের পাহাড়ে উঠে তিনি নিজেই দেখে নিয়েছেন কেউ ওত পেতে আছে কি না। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে পচেত্তিনো বলেছেন, ‘আমরা এখন গোয়েন্দাদের যুগে বসবাস করছি। কেউ নজর রাখছে কি না, সরাসরি দেখে নিশ্চিত হওয়া ভালো।’
খেলোয়াড়দের মতামত
মার্কিন মিডফিল্ডার টাইলার অ্যাডামসের মতে, নজরদারি কমবেশি সবাই করে। তিনি বলেছেন, ‘দিন শেষে সবাই কিছু না কিছু নজরদারি করে। কেউ একটু কম করে, কেউ একটু বেশি।’ দিন শেষে, ফুটবল দুনিয়ায় দুই ধরনের মানুষ আছে—হয় কেউ নজরদারি করছে, না হয় কেউ নজরদারিতে আছে। তবে মাঠের লড়াইয়ে কাজে না লাগাতে পারলে এই গোপন গোয়েন্দাগিরির মূল্য শূন্য।



