কানাডিয়ান পুলিশ জানিয়েছে, টরন্টোতে শনিবার এক সালসা উৎসবে গুলির ঘটনায় দুইজন নিহত এবং অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই উৎসবে হাজারো মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
গুলির ঘটনার বিবরণ
তদন্তকারীরা জানান, দুই ব্যক্তির মধ্যে গুলির বিনিময় হয়েছে এবং দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেন, এই আপাতদৃষ্টিতে ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটানোর ঘটনা ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে বিপদে ফেলতে পারত।
টরন্টোর ডেপুটি পুলিশ প্রধান ফ্র্যাঙ্ক ব্যারেডো জানান, “দুই পুরুষকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে” এবং “আরও চার ব্যক্তিকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।”
পুলিশের বক্তব্য
পুলিশ প্রাথমিকভাবে “সক্রিয় বন্দুকধারী” উল্লেখ করলেও ব্যারেডো বলেন, “এটি সেরকম মনে হচ্ছে না।” অপরাধীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি দুইজনের বেশি জড়িত থাকার সম্ভাবনা “উড়িয়ে দেননি”। তিনি আরও বলেন, “এখনো কোনো গ্রেপ্তার হয়নি।”
প্রধানমন্ত্রী ও মেয়রের প্রতিক্রিয়া
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক্স-এ বলেন, “টরন্টোর সেন্ট ক্লেয়ার সালসা উৎসবে গুলিতে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনায় আমি শঙ্কিত। তাদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা।” তিনি পুলিশ ও জরুরি সেবাদাতাদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও বলেন, “পরিবার, শিশু ও বয়স্কদের উপস্থিতিতে এই বেপরোয়া সহিংসতায় আমি গভীরভাবে বিচলিত ও রাগান্বিত।”
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
উৎসবে উপস্থিত জেসন ফেরদা এএফপিকে বলেন, তিনি প্রথমে “আতশবাজি” ভেবেছিলেন। “আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, আমি চলে গেলাম,” তিনি বলেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সিটিভি নিউজকে বলেন, “হঠাৎ সবাই মঞ্চের দিকে ছুটতে থাকে, পুলিশ এসে গান বন্ধ করে দেয়। সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে গেল।”
সম্প্রতি অন্যান্য গুলির ঘটনা
এই ঘটনার আগে গত মাসের শেষে মন্ট্রিলে আরেকটি গুলিতে দুইজন নিহত হন, যার মধ্যে একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন। অপরাধীকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমের ছোট খনিশহর টাম্বলার রিজের একটি স্কুলে গুলিতে আটজন নিহত হন, যার মধ্যে বন্দুকধারীর মা ও সৎ ভাই ছিলেন এবং ২৭ জন আহত হন। বন্দুকধারী পরে আত্মহত্যা করেন।



