মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ইরান অধিনায়ক মেহদী তারেমি সরাসরি ফিফা ও আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বলেছেন, বিশ্বকাপে ইরানের সঙ্গে 'অন্যায়' করা হয়েছে। তারেমির চোখে মুখে হতাশা আর ক্ষোভ স্পষ্ট ছিল।
লজিস্টিক জটিলতা ও ভিসা সমস্যা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই মাঠের বাইরে নানা সমস্যায় পড়ছে ইরান। মূল অনুশীলন ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা থাকলেও তা বদলে মেক্সিকোতে নেওয়া হয়। পরে ফিফা জানায়, প্রতিটি ম্যাচের দুই দিন আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রে যাবে এবং ম্যাচের পরদিন মেক্সিকো ফিরবে। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত বদলে যায়: দিনে গিয়ে দিনে ফিরতে হবে। তুমুল সমালোচনার পর ফিফা পুনরায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বলে, ম্যাচের আগের দিন এসে ম্যাচ শেষে চলে যেতে হবে। ইরান দলের অনেক স্টাফ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি।
মিসর ম্যাচে হতাশা
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খেলে যাওয়া ইরান আজ মিসরের বিপক্ষে জিতলেই 'রাউন্ড অব ৩২' নিশ্চিত করে ফেলত। শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ গোলে এগিয়েও গিয়েছিল তারা, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এতে ভেঙে যায় ইরানের স্বপ্ন। শেষ দিকে বারবার আক্রমণ করেও গোল পায়নি ইরান।
তারেমির বক্তব্য
এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেমি বলেন, 'এটা জঘন্য বিশ্বকাপ। ফিফার উচিত ছিল সব সমস্যার সমাধান করা। দুর্ভাগ্যবশত শুরু থেকেই তারা সেটি করতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ইনফান্তিনো আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, “এটি তো কেবল শুরু...” অথচ আগামীকালই গ্রুপ পর্ব শেষ হতে যাচ্ছে। আমাদের লজিস্টিক দলের কোনো মানুষ এখানে নেই, কারণ তাঁরা ভিসা পাননি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের কেন বারবার তিহুয়ানা থেকে যাতায়াত করতে হবে? আমরা তিহুয়ানার মানুষকে ভালোবাসি, মেক্সিকোকে ভালোবাসি। কিন্তু একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এমন একটি পেশাদার টুর্নামেন্টে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।'
অন্যায়ের অভিযোগ
ইরানের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে দাবি করে অধিনায়ক তারেমি বলেন, 'এটি অন্যায়, চরম অবিচার। ফিফার কাছে কি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়? তারা যদি চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যাই, তাহলে ঠিক আছে; আমরা বাদই পড়ে যাচ্ছি। আমাদের সাহায্য করার মতো কোনো লজিস্টিক স্টাফ এখানে নেই। আমরা এসব নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছি, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না।'
ইরান বিশ্বকাপে থাকুক, এটি আদৌ চাওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, 'আমাদের এখানে সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। লোকে কী চায়, আমি জানি না। তবে আমাদের দিক থেকে মনে হচ্ছে, হ্যাঁ, তারা সম্ভবত এটাই পছন্দ করছে...তা না হলে ৯০ মিনিট খেলার পর আমাদের আবার তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হবে কেন?'
গ্রুপ পর্বের অবস্থান
মিসরের সঙ্গে ড্র করার পর গ্রুপ পর্বে তৃতীয় হয়েছে ইরান। নকআউট বা শেষ বত্রিশের টিকিট পেতে হলে এখন তাদের বাকি ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর একটি হয়ে পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে ইরানের।



