লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ওপর বাড়তি প্রত্যাশা থাকলেও পর্তুগালের হয়ে আসরের প্রথম ম্যাচে তিনি নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার ইতিহাস গড়ার দিনে গোলদাতার তালিকায় নাম লেখাতে মরিয়া থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে পর্তুগিজ অধিনায়কের সেই চেনা ধার বা ক্ষিপ্রতা দেখা যায়নি।
পরিসংখ্যানে ব্যর্থতা
আল-নাসরের এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড পুরো ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করার সুযোগ পেয়েছেন, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলা ম্যাচগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। বিশেষ করে প্রথমার্ধে তিনি মাত্র ১৭ বার বল স্পর্শ করতে পেরেছিলেন, যা দলের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের তুলনায় কম। ম্যাচে তার সফল পাসের সংখ্যা ছিল মাত্র ২১টি।
সুযোগ হাতছাড়া
পুরো ৯০ মিনিটে রোনালদো গোলমুখে মাত্র তিনটি শট নিতে সক্ষম হন। এর মধ্যে ৬৮ ও ৭৪ মিনিটে দুটি অত্যন্ত সহজ সুযোগ তৈরি হলেও তার নেওয়া শটগুলো গোলপোস্টের ডান পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। গোলপোস্টের সামনে তার চিরচেনা সেই ফিনিশিং দক্ষতার অভাব পুরো ম্যাচে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে রোনালদোর এই গোলখরা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচেও একাধিক সুযোগ নষ্ট করেছিলেন তিনি।
টুর্নামেন্টে গোলখরা
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শেষ ১০টি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে (ইউরো ও ফিফা বিশ্বকাপ মিলিয়ে) পর্তুগালের জার্সি গায়ে কোনো গোলের দেখা পাননি ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। এই সময়ে তিনি মোট ৩৩টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পেরেছেন মাত্র ১১টি।
কোচের আস্থা ও ভবিষ্যৎ
দলের প্রধান তারকা ফরোয়ার্ডের এমন অফ-ফর্ম সত্ত্বেও কোচ রবার্তো মার্তিনেস তার ওপর পূর্ণ আস্থা বজায় রেখেছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া হতে থাকলে পর্তুগাল কোচের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আসরের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে রোনালদোকে মূল একাদশে রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।



