মেসির শহরে রোনালদো: গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে কলম্বিয়ার মুখোমুখি পর্তুগাল
মেসির শহরে রোনালদো: গ্রুপসেরা লড়াইয়ে কলম্বিয়ার মুখোমুখি

পর্তুগাল মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো অবশেষে আসছেন মেসির শহরে। না, রোজারিও নয়, মায়ামি। শহরটি সমুদ্রসৈকত ও প্রাণবন্ত নৈশজীবনের জন্য বিখ্যাত, কিন্তু কয়েক বছর ধরে এর প্রধান আকর্ষণ লিওনেল মেসি, যিনি ইন্টার মায়ামিতে খেলেন। সেই শহরেই বাংলাদেশ সময় কাল ভোর সাড়ে পাঁচটায় পর্তুগাল একটি নতুন মিশনে নামছে—বিশ্বকাপের ‘কে’ গ্রুপে গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ, নকআউটের মানচিত্র আঁকার লড়াই

কাগজে-কলমে এটি গ্রুপের শেষ ম্যাচ, বাস্তবে নকআউট পর্বের মানচিত্র আঁকার লড়াই। কলম্বিয়া ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে, আর পর্তুগাল ৪ পয়েন্টে প্রায় নিরাপদ। কিন্তু গ্রুপে কোন দল প্রথম হবে, সেটি পরের ম্যাচগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করবে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে পর্তুগালের সামনে তুলনামূলক সহজ পথ খুলে যেতে পারে—শেষ ৩২-এ প্রতিপক্ষ হবে সেরা তৃতীয় হওয়া দলগুলোর একটি। কোয়ার্টার ফাইনালে লুকিয়ে থাকতে পারে ফুটবল রোমান্টিকদের স্বপ্ন—মেসি বনাম রোনালদোর মুখোমুখি লড়াই। দুই মহাতারকার কারও একজনের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হতে পারে এটি, যা টেলিভিশন রেটিংয়ের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে।

দ্বিতীয় হলে কঠিন পথ, তৃতীয় হলে প্রায় নিশ্চিত ইংল্যান্ড

পর্তুগাল দ্বিতীয় হলে পথ অনেক বেশি কাঁটায় ভরা। শেষ ৩২-এ কার্লোস কুইরোজের ঘানা বা লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়াকে পেরিয়ে শেষ ১৬-তে সামনে আসতে পারে স্পেন। তৃতীয় হয়ে উঠলে প্রায় নিশ্চিত প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। পর্তুগিজ উইঙ্গার পেদ্রো নেতো অকপটে স্বীকার করেন, ‘আমরা অবশ্যই কী হবে না হবে, এটা ভাবি। যদি বলি, দ্বিতীয় বা তৃতীয় হলে কী হতে পারে তা নিয়ে ভাবিনি, তবে মিথ্যা বলা হবে। কিন্তু পর্তুগিজ মানসিকতা সব সময় সেরা হওয়ার। আমরা কলম্বিয়ার মুখোমুখি হব প্রথম হওয়ার জন্যই।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কলম্বিয়া: নিঃশব্দে পরিণত সংস্করণ

কলম্বিয়া এই বিশ্বকাপে নিজেদের সবচেয়ে পরিণত সংস্করণ মেলে ধরছে। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তিন গোল, কঙ্গোর বিপক্ষে ধৈর্যের পরীক্ষা পেরিয়ে ১-০ জয়। দলটির আক্রমণে কল্পনা, মাঝমাঠে ধৈর্য, রক্ষণে শৃঙ্খলা রয়েছে। হামেস রদ্রিগেজ, যার ক্লাব ক্যারিয়ার প্রায় শেষের পথে, এখনো কলম্বিয়ার মুখ—এই বিশ্বকাপে তিনি দুটি গোল বানিয়ে দিয়েছেন। কলম্বিয়ার কোচ নেস্তর লোরেঞ্জো পর্তুগালকে নিজেদের আয়না হিসেবে দেখেন: ‘পর্তুগাল আমাদের মতোই এক দল, যে দল বল দখলে রাখতে চায়, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে চায় এবং সুন্দর খেলে জিততে চায়।’

পর্তুগালের দুটি গল্প: হতাশা ও বিস্ফোরণ

এই বিশ্বকাপে পর্তুগালের যাত্রা দুটি ভিন্ন গল্প। প্রথমটি হতাশার: কঙ্গোর বিপক্ষে ৭৪০টি পাস খেলেও লক্ষ্যভেদী শট মাত্র একটি। সমালোচকেরা বলেছিলেন, এত বল দখল রেখে লাভ নেই যদি গোল না আসে। দ্বিতীয় গল্পটি বিস্ফোরণের: উজবেকিস্তানের জালে পাঁচ গোল, আর সেই রাতে ফিরে এলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বড় টুর্নামেন্টে টানা ১০ ম্যাচ গোলহীন থাকার পর ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তির জোড়া গোল। সমালোচনার শব্দ চাপা পড়ে উদযাপনের আওয়াজে। তবে মায়ামির এই পরীক্ষা আলাদা—কলম্বিয়ার শারীরিক শক্তি, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ও সুসংগঠিত রক্ষণ এমন এক প্রশ্নপত্র, যার উত্তর শুধু মহাতারকা দিয়ে লেখা যাবে না।

মায়ামির ম্যাচ: গ্রুপ পর্বের শেষ, নাকি নতুন পথের শুরু?

মায়ামির এই ম্যাচ রোমাঞ্চভরে অপেক্ষা করার মতো। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ, আবার হয়তো এখানেই শুরু হবে রোনালদোর এমন একটি পথ, যার শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করছেন মেসি, লুকা মদরিচ, হ্যারি কেইন বা অন্য কেউ। বিশ্বকাপের সৌন্দর্য এখানেই—ট্রফি জয়ের গল্প পরে লেখা হয়, আগে লেখা হয় পথের গল্প।