ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি রোমারিও জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে মুগ্ধ হয়েছেন। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে এক গোলে পিছিয়ে থেকেও দারুণ প্রত্যাবর্তন করে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা। ব্রাজিলের দৈনিক ‘ও গ্লোবো’তে লেখা এক কলামে রোমারিও ম্যাচটি বিশ্লেষণ করেছেন এবং ব্রাজিল ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
প্রথমার্ধে ধীরগতি, দ্বিতীয়ার্ধে প্রত্যাবর্তন
রোমারিও ম্যাচের শুরুতে ব্রাজিলের ধীরগতির সমালোচনা করলেও দলের উন্নতিতে সন্তুষ্ট। তিনি লেখেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা খুব একটা ভালো খেলতে পারিনি। বলের দখল বেশি থাকলেও প্রতিপক্ষকে কার্যকরভাবে চাপে ফেলতে পারিনি। ধীরে ধীরে খেলায় উন্নতি দেখা গেছে। মনে হচ্ছিল গোল আসা শুধু সময়ের ব্যাপার। জাপানি খেলোয়াড়দের তুলনামূলক কম উচ্চতার সুযোগ আমরা ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছি।’
দলগত প্রচেষ্টাই মূল নায়ক
কাসেমিরো ও মার্তিনেল্লির গোলে জয় পেলেও রোমারিও কাউকে আলাদা কৃতিত্ব দিতে রাজি নন। তাঁর মতে, ‘এই ম্যাচের আসল নায়ক কোনো একক খেলোয়াড় নন, বরং পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। পুরো ম্যাচে জাপান মূলত নিজেদের অর্ধে রক্ষণে মনোযোগ দিয়েছে এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেছে। কিন্তু ব্রাজিল হাল ছাড়েনি।’
আনচেলত্তির কৌশলের প্রশংসা
কোচ কার্লো আনচেলত্তির বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্তকে কার্যকর বলে মন্তব্য করেন রোমারিও। তিনি লেখেন, ‘আনচেলত্তির বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্তগুলো ছিল দারুণ কার্যকর। মার্তিনেল্লি ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় ছিলেন। দারুণ এক দলগত আক্রমণে পায়ে পায়ে বল নিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি জালে পাঠান। বলটি পোস্টে লেগে ভেতরে ঢোকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়! সত্যি বলতে, ড্র আমাদের প্রাপ্য ছিল না।’
সামনের চ্যালেঞ্জ ও আস্থা
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে নরওয়ে বা আইভরিকোস্ট। রোমারিও জানিয়েছেন, সামনে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। তবে দলের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে: ‘সামনে নরওয়ে হোক কিংবা আইভরিকোস্ট—যে–ই আসুক না কেন, কঠিন প্রতিপক্ষই হবে। দুটি দলই নিঃসন্দেহে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে। তবে আমার কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা আবারও পরবর্তী ধাপে উঠতে এবং ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার পথে এগিয়ে যেতে পুরোপুরি সক্ষম।’



