অ্যান্টার্কটিকার রস দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট ইরেবাস একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি যা প্রতিনিয়ত বাতাসে খাঁটি সোনার ক্ষুদ্র স্ফটিক ছড়িয়ে দিচ্ছে। জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারস সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, এই আগ্নেয়গিরি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম সোনার ক্রিস্টাল নির্গত হয়, যার বর্তমান বাজারমূল্য দৈনিক প্রায় ছয় হাজার মার্কিন ডলার। বার্ষিক হিসাবে, এর মূল্য দাঁড়ায় ২০ লাখ ডলারের বেশি।
অবস্থান ও লাভা হ্রদ
ভৌগোলিক দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাউন্ট ইরেবাসের চূড়ায় একটি স্থায়ী লাভা হ্রদ রয়েছে। এই হ্রদ থেকে অনবরত আগ্নেয় গ্যাস নির্গত হয়, যার সঙ্গে সোনার অতি ক্ষুদ্র কণাগুলো ওপরে উঠে আসে। বাতাসে ভেসে এই সোনার কণাগুলো আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং পরবর্তীতে অ্যান্টার্কটিকার বরফের ওপর জমা হয়।
সোনার ক্রিস্টালের বৈশিষ্ট্য
ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই সোনার কণাগুলো সাধারণ ধূলিকণার মতো নয়। এগুলো সুগঠিত ছোট ছোট স্ফটিক বা ক্রিস্টাল আকৃতির, যার কোনোটির আকার ৬০ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
অন্যান্য আগ্নেয়গিরির তুলনায় পার্থক্য
আগ্নেয়গিরির গ্যাসে সোনার উপস্থিতি নতুন নয়। এর আগে হাওয়াইয়ের কিলাউয়া, ইতালির মাউন্ট এটনা, আলাস্কার অগাস্টিন ও মেক্সিকোর এল চিচন আগ্নেয়গিরির গ্যাসেও সামান্য পরিমাণে সোনা পাওয়া গিয়েছিল। তবে মাউন্ট ইরেবাসের সোনা তৈরির প্রক্রিয়া পৃথিবীর অন্য যেকোনো আগ্নেয়গিরির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
রহস্যের ব্যাখ্যা
বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন কীভাবে মাউন্ট ইরেবাস এই মাইক্রোস্কোপিক সোনার ক্রিস্টাল তৈরি ও বাতাসে ছেড়ে দেয়। দুটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে: প্রথমত, বাতাসে ঠান্ডা হওয়ার সময় ক্লোরিনযুক্ত আগ্নেয় গ্যাস থেকে সোনা সরাসরি ক্রিস্টালে পরিণত হয়, তবে গ্যাসে সোনার পরিমাণ খুবই সামান্য বলে এটি কঠিন। দ্বিতীয়ত, আগ্নেয়গিরির লাভা হ্রদের উপরিভাগে সোনার ক্রিস্টালগুলো প্রথমে ধীরে ধীরে বড় হয়, পরে আগ্নেয় গ্যাসের তীব্র টানে বাতাসের সঙ্গে ওপরে উঠে আসে।



