কোয়ার্টার ফাইনালের মহারণ: ইতিহাস আর্জেন্টিনার পক্ষে, রূপকথা লিখবে সুইজারল্যান্ড?
কোয়ার্টার ফাইনালের মহারণ: ইতিহাস আর্জেন্টিনার পক্ষে

টানা দ্বিতীয়বার এবং সামগ্রিকভাবে চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে দুর্দান্ত ছন্দে এগিয়ে চলছে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা। সেই অভিযানের পরবর্তী ধাপে আগামী রোববার (১২ জুলাই) কানসাস সিটিতে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

আর্জেন্টিনার দাপুটে গ্রুপ পর্ব ও মেসির ফর্ম

উত্তর আমেরিকার মাটিতে আর্জেন্টিনার যাত্রা ছিল বেশ দাপুটে। গ্রুপ ‘জে’-তে আলজেরিয়াকে ৩-০, অস্ট্রিয়াকে ২-০ এবং জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শতভাগ সাফল্য নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা। এই সাফল্যের কেন্দ্রে ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই ৮ গোল করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। গ্রুপ পর্বে ৬ গোলের পর নকআউট পর্বে যোগ করেছেন আরও দুটি। বিশেষ করে মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে তার সমতাসূচক গোলটি ছিল ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন মেসি, যার গোলসংখ্যা এখন ২১।

নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার কঠিন যাত্রা

তবে ফলাফলে ধারাবাহিকতা থাকলেও আর্জেন্টিনার নকআউট যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। রাউন্ড অব ৩২-এ অভিষিক্ত কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে জয় পায় তারা। এরপর শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নেয় স্কালোনির দল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুইজারল্যান্ডের ঐতিহাসিক অভিযান

অন্যদিকে মুরাত ইয়াকিনের অধীনে সুইজারল্যান্ডও পার করছে নিজেদের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ অভিযান। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে তারা। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুটি নকআউট ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছে সুইসরা। রাউন্ড অব ৩২-এ আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারানোর পর শেষ ষোলোতে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে পরাজিত করে শেষ আট নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড। দলের অন্যতম ভরসা জোহান মানজাম্বির অনুপস্থিতিতেও তারা নিজেদের দৃঢ়তা দেখিয়েছে। গ্রুপ পর্বে বসনিয়া ও সহ-আয়োজকদের বিপক্ষে গোল করে দলকে গ্রুপ সেরা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এই তরুণ তারকা।

মুখোমুখি পরিসংখ্যান: আর্জেন্টিনার দাপট

বিশ্বকাপে এর আগে দুইবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে লুইস আরটাইম ও এরমিন্ডো ওনেগার গোলে সুইজারল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে হারায় আর্জেন্টিনা। এরপর ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে দুই দলের লড়াই গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ম্যাচের ১১৮তম মিনিটে আনহেল দি মারিয়ার গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। সামগ্রিকভাবে দুই দলের সাতটি সাক্ষাতে পাঁচটিতে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ মুখোমুখি লড়াইয়ে এখনও অপরাজিত রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার জায়ান্টরা।

সেমিফাইনালের পথ

কানসাস সিটির এই কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ী দল আগামী ১৫ জুলাই আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে। এখন দেখার বিষয়, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা কি ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারে, নাকি সুইজারল্যান্ড নতুন এক বিশ্বকাপ রূপকথার জন্ম দেয়।