চলতি সপ্তাহে পুরুষদের প্যারিস ফ্যাশন উইকের শোতে আসা অতিথিদের কাছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত অনুষঙ্গ ছিল না কোনও নামী ব্র্যান্ডের ব্যাগ, স্নিকার বা ঘড়ি; বরং সেটি ছিল এক টুকরো আইস প্যাক। ফ্রান্সের রাজধানীতে রেকর্ডভাঙা তীব্র তাপদাহ চলায় কুয়াশা তৈরির মেশিন, ঠান্ডা তোয়ালে, ছাতা আর রূপার পাত্রে বরফশীতল এভিয়ান পানি দিয়েও অতিথিদের শান্ত রাখতে হিমশিম খেয়েছে নামি-দামি ফ্যাশন হাউসগুলো।
ঐতিহাসিক ভেন্যুতে তীব্র গরম
ঐতিহাসিক ভেন্যুগুলো গরমে ওভেনের মতো জ্বলছিল, বসার জায়গা ছিল ঠাসাঠাসি এবং সেখানে কোনও এসি ছিল না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ফ্রান্স যখন জরুরি অবস্থার মধ্যে রয়েছে এবং তাপমাত্রা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (১০৬ ফারেনহাইট) ঠেকেছে, তখন ফ্যাশন বিশ্বের শতকোটি ডলারের এই বড় আয়োজন নতুন সংকটের মুখে পড়েছে।
রানওয়েতে ভারী পোশাকের বৈপরীত্য
সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য দেখা গেছে রানওয়েতে। বাইরে যখন প্রচণ্ড গরম, তখন রানওয়েতে মডেলরা হেঁটেছেন পশমি কোট, ভারী চামড়া, নিওপ্রিন ও উলের পোশাক পরে। ডিওরের জোনাথন অ্যান্ডারসন এই অবাস্তব পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে বলেন, 'এই ক্যালেন্ডারের কোনও যৌক্তিকতা নেই।'
অতিথি ও শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
২৪ বছর বয়সী ফ্যাশন শিক্ষার্থী থমাস লেভি বলেন, 'প্যারিসের সব জায়গায় এসি নেই, এটা খুবই বিরল। এই গরমে মডেলরা কীভাবে চামড়া ও নিটের ভারী কোট পরে ক্যাটওয়াক করলো, আমি জানি না।' তীব্র গরমের কারণে ডিওর তাদের দুপুরের শোর সময় পরিবর্তন করে সকাল ৯টায় নিয়ে আসে। তাও এসিবিহীন ভেন্যুতে পানির তীব্র সংকট ছিল এবং গরমে অনেক অতিথি প্রায় জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়েছিলেন।
ফ্যাশন সমালোচকের ভাষ্য
লন্ডনের ফ্যাশন সমালোচক বেন ফ্রিম্যান বলেন, 'আমার মনে হচ্ছিলো আমি এখনই অজ্ঞান হয়ে যাবো। প্যারিস ফ্যাশন উইক আসলে খনিগর্ভের ক্যানারি পাখির মতো।'
ব্র্যান্ডগুলোর উদ্ভাবনী সমাধান
রিক ওয়েনস তার মডেলদের পোশাকের ভেতরে ফ্যান জুড়ে দিয়ে কুয়াশার মধ্য দিয়ে রানওয়েতে পাঠিয়েছেন, যাকে একজন সমালোচক 'জলবায়ু বিপর্যয়ের রূপক' বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে ইসি মিয়াকের 'আইএম মেন' অন্তত বাস্তবসম্মত উপায়ে দরজায় বরফের প্যাক বিলি করেছে এবং বাঁশের সুতোর তৈরি হালকা পোশাক প্রদর্শন করেছে।
ফ্রান্সে এসি ব্যবহারের সংস্কৃতি
ফ্রান্সে এসির ব্যবহার এখনও সাংস্কৃতিকভাবে নেতিবাচক চোখে দেখা হয়। এটিকে গলাব্যথার কারণ, অপচয় এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর মনে করা হয়। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার এসির চেয়ে গাছপালা লাগানো ও ছায়ার ব্যবস্থার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। ফ্রান্সের ফ্যাশন ফেডারেশনের প্রধান প্যাসকাল মোরান্দ জানান, তারা সরকারের তাপদাহ মোকাবিলা সংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনেই কাজ করছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, উনিশ শতকের পুরোনো প্যারিস শহর, যেখানে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে টিকে থাকতে অতিথিদের আইস প্যাকের ওপর নির্ভর করতে হয়, তা আর কতদিন এই জাঁকজমকপূর্ণ গ্রীষ্মকালীন উৎসবের আয়োজন ধরে রাখতে পারবে?
সূত্র: এপি



