ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হয়েছে। তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দারুণ সূচনা করলেও ইতিহাস বলছে, তাদের চারটি বিশ্বকাপ হতে পারত যদি না পথ আগলে দাঁড়াতেন এক অসাধারণ ফুটবলার। তিনি হলেন হেক্টর কাস্ত্রো, যিনি ‘এল ডিভিনো মানকো’ বা ‘একহাতের দেবতা’ নামে পরিচিত।
শৈশব ও দুর্ঘটনা
উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওর এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম হেক্টর কাস্ত্রোর। অভাবের সংসারে বড় হয়ে ওঠা এই ফুটবলার অল্প বয়সেই কাজ শুরু করেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে কাঠ কাটার কাজে যোগ দেন তিনি। তিন বছর পর বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহারের সময় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ডান কনুই থেকে তার হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গোলরক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যায়, কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি।
ক্যারিয়ারের সূচনা
১৭ বছর বয়সে অ্যাটলেটিক ক্লাব লিটোতে যোগ দিয়ে প্রতিভার ঝলক দেখান কাস্ত্রো। ১৯ বছর বয়সে উরুগুয়ের সেরা ক্লাব নাসিওনালে সুযোগ পান। ১৯২৩ সালে নাসিওনালে যোগ দিয়েই লিগ শিরোপা জেতেন এবং একই বছর জাতীয় দলে অভিষেক হয়। ১৯২৮ সালের অলিম্পিকে উরুগুয়ে দলের সদস্য হিসেবে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সোনা জেতেন তিনি।
বিশ্বকাপের গৌরব
১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজন করে উরুগুয়ে। টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় মন্টেভিডিওতে। পেরুর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে একমাত্র গোলটি করেন কাস্ত্রো, যা উরুগুয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোল। সেমিফাইনালে জুয়ান আনসেলমো চোটে পড়লে ফাইনালে সুযোগ পান তিনি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে উরুগুয়ের শেষ গোলটি আসে কাস্ত্রোর পা থেকে। এই জয় উরুগুয়েকে প্রথম বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন করে।
অবসর ও কোচিং
১৯৩৬ সালে অবসর নেওয়ার আগে কাস্ত্রো ১৮১ ম্যাচে ১০৭ গোল করেন। খেলোয়াড় হিসেবে তিনবার উরুগুয়ের জাতীয় লিগ জেতেন। কোচ হিসেবে নাসিওনালকে টানা চারবার (১৯৪০-১৯৪৩) এবং ১৯৫২ সালে আরও একবার লিগ শিরোপা এনে দেন। ১৯৫৯ সালে উরুগুয়ে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নিলেও অল্প সময়ের মধ্যে পদত্যাগ করেন। ১৯৬০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় এই কিংবদন্তির।



