চলতি বিশ্বকাপে অবশেষে মাঠে নেমেছেন ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র। বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৪টায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৬ মিনিটে তিনি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে প্রবেশ করেন। তখন ব্রাজিল ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার উল্লাসে মেতেছিল। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
নেইমারের প্রত্যাবর্তন: পরিকল্পিত ও প্রস্তুত
নেইমারের এই ম্যাচে ফেরা আকস্মিক ছিল না। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ব্রাজিল দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তিনি সম্পূর্ণ ফিট এবং মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত। ডান পায়ের কাফ ইনজুরির (মাংসপেশির চোট) কারণে ব্রাজিলের প্রথম দুটি ম্যাচ মিস করার পর অবশেষে এই ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপে অভিষেক হলো। তবে ম্যাচে নেইমারকে শুরুর একাদশে রাখা হয়নি। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি চলতি সপ্তাহের শুরুতেই নেইমারকে বিকল্প বা বদলি খেলোয়াড় হিসেবে খেলানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগোচ্ছেন তিনি।
দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও ভিনিসিয়ুসের প্রতিক্রিয়া
দ্বিতীয়ার্ধে নেইমার যখন সাইডলাইনের পাশে ওয়ার্ম-আপ শুরু করেন, গ্যালারির সেই অংশের দর্শকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। এরপর মাঠে প্রবেশ করে খেলায় প্রথমবার যখন ফুটবল স্পর্শ করেন, তখন গ্যালারির করতালির শব্দ আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়। ম্যাচে জোড়া গোল করা ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ম্যাচ শেষে দলের সবচেয়ে বড় এই তারকার প্রত্যাবর্তন নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। আমাদের আইডল ফিরে এসেছে। ও এমন একজন মানুষ যে এখানে আসার জন্য সবসময় কঠোর লড়াই করেছে এবং সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। ইনজুরি কাটিয়ে ও আবার মাঠে ফিরেছে। আমি আশা করি ও নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করতে থাকবে এবং পুরো টুর্নামেন্টে আমাদের সাহায্য করবে। দিনশেষে সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
কোচ আনচেলত্তির মন্তব্য
এর আগে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে কোচ আনচেলত্তি বলেছিলেন, ‘ও সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এই সপ্তাহে খুব ভালো অনুশীলন করেছে। ও খেলার জন্য ফিট এবং উন্মুখ হয়ে আছে। ও দলে ফেরায় আমরা খুবই আনন্দিত। ও অসাধারণ মানের একজন খেলোয়াড়।’
নেইমারের রেকর্ড ও বিশ্বকাপ ইতিহাস
উল্লেখ্য, ৩৪ বছর বয়সি নেইমার ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। দেশের হয়ে ১৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ৭৯টি। এর আগে ব্রাজিলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনি ৮টি গোল করেছেন।



