কানাডার কোচ জেসি মার্শের বোধ হয় কদিন ধরে ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না। যদি একটু চোখ লেগেও আসে, দুঃস্বপ্নে হয়তো আবারও ভেঙে যাচ্ছে ঘুম। শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডার প্রতিপক্ষ আজ মরক্কো। আর এই ম্যাচের আগে মার্শ বলছেন, মরক্কোর বিপক্ষে প্রস্তুতি নেওয়াটা তাঁর জন্য ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে!
মরক্কোর অপরাজেয় ফর্ম
মরক্কো যেমন খেলছে, তাতে অবশ্য মার্শের এমন দুর্ভাবনা স্বাভাবিক। এই বিশ্বকাপে এখনো মরক্কো হারেনি, ব্রাজিলের মতো দলের সঙ্গে ড্র করার পর শেষ ৩২-এ হারিয়েছে নেদারল্যান্ডসকে। কিন্তু কানাডা তো বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক, ঘরের মাঠের সুবিধা তাদের পাওয়ারই কথা। সমস্যা হচ্ছে, আজকের ম্যাচটি কানাডাকে খেলতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে। নিজেদের দর্শকদের সামনে খেলার সুবিধাটা তাই আজ নেওয়া হচ্ছে না তাদের!
কানাডার পথচলা
অবশ্য কানাডার জন্য শেষ ১৬-তে আসাটাই বড় সাফল্য। বসনিয়ার সঙ্গে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপের শুরু, এরপর কাতারকে উড়িয়ে দেওয়ার পর সুইজারল্যান্ডের কাছে হারের পরও উঠে যায় নকআউটে। শেষ ৩২-এ দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে পেয়ে যায় বিশ্বকাপ নকআউটে প্রথম জয়।
চার বছর আগেও দুই দলের দেখা হয়েছিল বিশ্বকাপে। ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে এসে ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে কানাডা মরক্কোর কাছে হেরেছিল ২-১ গোলে। সেই মরক্কো পরে চলে গিয়েছিল সেমিফাইনালে। সেই ফর্ম তারা এখন পর্যন্ত টেনে নিয়ে এসেছে বিশ্বকাপে। নিজেদের ওপর চাপ কমাতে হোক বা অন্য যেকোনো কারণেই হোক, মার্শ মরক্কোকে ফেবারিট মেনে নিচ্ছেন আগে থেকেই, ‘ওরা দারুণ একটা দল। ওদেরকে এড়িয়ে যেতে পারলেই আমাদের জন্য ভালো হতো।’ চাপ কমাতেই হয়তো মার্শ বলে দিচ্ছেন, শেষ ১৬-তে আসাটাই তাদের জন্য বোনাস। এরপর যদি কোনো প্রাপ্তি হয়, তাঁর ভাষায় তার সবই ‘ফ্রি হিট’।
মরক্কোর শক্তিশালী স্কোয়াড
মরক্কোর এই দলে চার বছর আগের অনেকেই আছেন। তবে এবার দলটার নতুন বিজ্ঞাপন এমন একজন, বিশ্বকাপের আগে যাঁকে নিয়ে সেই অর্থে কথাই হয়নি। ইসমায়েল সাইবারি এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে করে ফেলেছেন তিন গোল। মাঝমাঠে চোখ থাকবে এই বিশ্বকাপের আরেক নতুন নক্ষত্র আইয়ুব বুয়াদ্দির ওপর। আর নেদারল্যান্ডস ম্যাচের টাইব্রেকার ইয়াসিন বুনু তো গোলপোস্টের নিচে আছেনই। আশরাফ হাকিমির দলটা তাই আগের চেয়েও যেন ক্ষুরধার।
কানাডার সম্ভাবনা
কানাডা দলে হয়তো আলফনসো ডেভিস ছাড়া সেই অর্থে বড় নাম নেই। তবে জুভেন্টাস ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড এর মধ্যেই হ্যাটট্রিক করেছেন, স্টেফান ইউস্টাকিও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ সময়ে করেছেন মনে রাখার মতো এক গোল। নিজেদের মাঠে খেলতে না পারলেও আরেকটা সুবিধা অবশ্য পাচ্ছে কানাডা—মরক্কোর চেয়ে এক দিন বেশি বিশ্রাম পাচ্ছে তারা। ওদিকে নেদারল্যান্ডস ম্যাচে ১২০ মিনিট খেলার পর টাইব্রেকারের শারীরিক আর মানসিক ধকলও সঙ্গী মরক্কোর।
আজ হিউস্টনে মরক্কোই ফেবারিট, তবে কানাডা চমকে দিলে অবাক হবেন না একটুও!



