বোস্টন স্টেডিয়ামে শেষ পর্যন্ত একটি গোলেই থেমে গেল ম্যাচ। কিন্তু পুরো ৯০ মিনিট দেখলো দুটি আলাদা স্কটল্যান্ডকে। কিকঅফের মাত্র ৭০ সেকেন্ডে সাইবারির বিস্ফোরক গোলে যে স্কটল্যান্ড একেবারে নুইয়ে পড়েছিল, দ্বিতীয়ার্ধে সেই দলটাই ফিরে আসে অনেক বেশি সংগঠিত হয়ে।
প্রথমার্ধ: ধাক্কা সামলাতে না পারা স্কটল্যান্ড
ম্যাচ শুরুর পরপরই সাইবারির ঐতিহাসিক গোলে পিছিয়ে পড়ে স্কটল্যান্ড। এরপরের পুরো প্রথমার্ধেই মরক্কোর দাপট ছিল স্পষ্ট। ৭৮ শতাংশ বল দখল রেখে আক্রমণে আক্রমণে স্কটিশ রক্ষণকে চাপে রাখে আটলাস লায়ন্স। হাকিমি ও এল খানৌসের আক্রমণ ঠেকাতে গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে একাধিকবার হস্তক্ষেপ করতে হয়। বিরতির আগে ওনাহির একটি শট সামান্যের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, অন্যথায় ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারতো।
দ্বিতীয়ার্ধ: উন্নতির স্কটল্যান্ড, তবু গোল অধরা
বিরতির পর স্টিভ ক্লার্কের দল সম্পূর্ণ ভিন্ন মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে। মরক্কোর আক্রমণের তীব্রতা কমে আসায় তারা কিছুটা গুটিয়ে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে, আর সেই সুযোগে স্কটল্যান্ড নিজেদের সংগঠিত করে।
রায়ান ক্রিস্টির বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া একটি দুর্দান্ত শট সামান্যের জন্য মরক্কোর ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়, দিনের সবচেয়ে কাছের সমতার সুযোগ। স্কটিশ আক্রমণে এরপর আরও তীক্ষ্ণতা দেখা যায়, তবে শেষ পর্যন্ত মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর দৃঢ়তা এবং রক্ষণের সতর্কতায় কাঙ্ক্ষিত গোলটা আসেনি।
দিনের শেষে স্কোরবোর্ড অপরিবর্তিত— ০-১। মরক্কো ৭০ সেকেন্ডের সেই গোলেই পুরো তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়লো, আর স্কটল্যান্ডের জন্য রইলো শুধু আফসোস, যদি দ্বিতীয়ার্ধের সেই মনোভাবটা শুরু থেকেই থাকতো।
গ্রুপ সমীকরণ
হাইতির বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু করা স্কটল্যান্ডের সামনে এখন কঠিন সমীকরণ। শেষ গ্রুপ ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে ভালো ফল ছাড়া নকআউটের আশা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। আর মরক্কো— ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র আর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিয়ে গ্রুপ ‘সি’-তে এখন সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে।



