আজটেকার রাতে মেক্সিকো-ইকুয়েডর লড়াই, কার স্বপ্ন পূরণ হবে?
আজটেকার রাতে মেক্সিকো-ইকুয়েডর লড়াই, কার স্বপ্ন পূরণ হবে?

একটি গোল কাউকে নিয়ে যায় অমরত্বের দিকে, আর একটি ভুল শেষ করে দিতে পারে বহু বছরের অপেক্ষা। এবার সেই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি মেক্সিকো ও ইকুয়েডর। আজটেকার গ্যালারি, মানুষের গর্জন আর ইতিহাসের ভার নিয়ে এক দল নামবে নিজেদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার উত্তর খুঁজতে, আরেক দল নামবে দেখাতে ফুটবলে বড় গল্পগুলো সবসময় বড় শক্তির জন্য লেখা থাকে না।

মেক্সিকোর নিখুঁত পথচলা

স্বাগতিক মেক্সিকো এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সংগঠিত দলগুলোর একটি। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে তিন জয়, ছয় গোল, একটিও গোল হজম নয়—এমন নিখুঁত পথচলা তাদের আত্মবিশ্বাসের জায়গা তৈরি করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেকিয়াকে হারিয়ে তারা শুধু গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়নি, নিজেদের চারপাশে তৈরি করেছে প্রত্যাশার নতুন বৃত্ত।

মেক্সিকোর কাঁধে আছে দীর্ঘ অপেক্ষার ভার। নিজেদের মাটিতে ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউটে আর জয় পায়নি তারা। সেই স্মৃতি এখনও জীবন্ত। আবার নিজেদের দর্শকের সামনে দাঁড়িয়ে সেই ইতিহাস বদলানোর সুযোগ এসেছে। কোচ হাভিয়ের আগিরেও অতীতের ব্যর্থতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। তার বিশ্বাস, ‘এই দলকে আবেগ নয়, পরিপক্বতা দিয়ে এগোতে হবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মেক্সিকোর শক্তি: ভারসাম্য ও রক্ষণ

মেক্সিকোর বড় শক্তি শুধু দর্শক নয়, তাদের ভারসাম্য। আক্রমণে জুলিয়ান কিনিওনেস, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ, আর রক্ষণে অসাধারণ শৃঙ্খলা। এই বিশ্বকাপে এখনও তাদের গোলরক্ষককে বল জালের ভেতর থেকে তুলতে হয়নি। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় তাদের শক্তি শুধু সামনে নয়, পেছনেও।

ইকুয়েডরের ঝড়-পেরনো পথ

অন্যদিকে ইকুয়েডর এসেছে ঝড় পেরিয়ে। গ্রুপ পর্বের শুরুটা ছিল অস্বস্তিকর। আইভরিকোস্টের কাছে হার, কুরাসাওর সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপের দরজা হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে। শেষ ম্যাচে তারা জার্মানিকে ২–১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত প্রত্যাবর্তনের একটি উপহার দেয়। সেখান থেকেই শেষ ৩২।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইকুয়েডরের শক্তি শরীরী ফুটবল নয়, শুধু তাদের ধৈর্য। জায়গা বন্ধ করে, চাপ নেয়, তারপর হঠাৎ আঘাত করে। পরিসংখ্যান বলছে, গ্রুপ পর্বে তারা সুযোগ তৈরি করেছে অনেক, কিন্তু গোল তুলনামূলক কম করেছে।

নতুন অধিনায়ক কাইসেদো

নতুন অধিনায়ক হয়েছেন মোইসেস কাইসেদো। বিশ্বকাপের মাঝপথে নেতৃত্বের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি এখন ইকুয়েডরের মুখ। অভিজ্ঞ এননার ভ্যালেন্সিয়া দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন নতুন প্রজন্মের হাতে। আর কাইসেদোর কাজ হবে মেক্সিকোর ছন্দ থামানো।

মুখোমুখি ইতিহাস

দুই দলের অতীত মুখোমুখি ইতিহাসে এগিয়ে মেক্সিকো। তারা ২৫ ম্যাচে জিতেছে ১৪টি, ইকুয়েডরের জয় মাত্র ৪টি। বিশ্বকাপেও আগে একবার দেখা হয়েছিল ২০০২ সালে, সেখানেও জয় মেক্সিকোর।

আজটেকার রাতে এক দল খেলবে চার দশকের অপেক্ষা শেষ করতে। আরেক দল নামবে প্রমাণ করতে বিশ্বকাপে দরজা বন্ধ হয় না, কেউ যদি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কড়া নাড়তে থাকে।