আর্জেন্টিনা ফিফা বিশ্বকাপের সবচেয়ে নাটকীয় কামব্যাকগুলোর একটি উপহার দিয়েছে। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে তারা। আটলান্টার মাঠে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ছিল অবিস্মরণীয়।
ম্যাচের শুরুতে মিশরের আধিপত্য
প্রথমার্ধের ১৫তম মিনিটে ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিম সেট পিস থেকে হেড করে মিশরকে এগিয়ে দেন। এরপর আর্জেন্টিনা চাপ তৈরি করলেও মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেয়ার দুর্দান্ত সেভে মেসির পেনাল্টি রুখে দেন ২১তম মিনিটে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭তম মিনিটে মোস্তফা জিকো মোহাম্মদ সালাহর দ্রুত আক্রমণে মিশরের দ্বিতীয় গোল করেন। তাতে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন প্রায় শেষের পথে।
আর্জেন্টিনার কামব্যাক শুরু
৭৯তম মিনিটে সেন্টার-ব্যাক ক্রিস্টিয়ান রোমেরো মেসির ক্রস থেকে হেড করে আর্জেন্টিনার প্রথম গোল করেন। এরপর ৮৪তম মিনিটে মেসি নিজেই গোল করে স্কোর ২-২ করেন। মাঠের দর্শকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।
ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ আরেকটি ক্রস থেকে হেড করে জয়সূচক গোল করেন। তাতে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও সমর্থকরা আবেগে ভাসেন।
ম্যাচের তাৎপর্য
এই জয় আর্জেন্টিনার চরিত্রের পরিচয় দেয়। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও তারা ধৈর্য ধরে খেলে শেষ পর্যন্ত জিতেছে। অন্যদিকে মিশর ৭৫ মিনিটের বেশি সময় তাদের পরিকল্পনা মেনে খেললেও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি।
মেসির পারফরম্যান্স ম্যাচের প্রতিচ্ছবি। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করলেও শেষ দিকে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জিতিয়েছেন। এখন আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু এই ম্যাচ তাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে নকআউট পর্বে কোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না। মিশর বিদায় নিলেও তারা মাথা উঁচু করে রেখেছে।



