সুইডিশ ফুটবল কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ মন্তব্য করেছেন যে, আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে সমালোচনা দেখা গেছে, তার মূল লক্ষ্য আর্জেন্টিনা দল নয়, বরং লিওনেল মেসি। এসেনশিয়ালিস্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিশ্চিত যে আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের পর যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তা আসলে আর্জেন্টিনাকে নয়, সরাসরি মেসিকেই লক্ষ্য করে করা হয়েছে।'
রেফারিং বিতর্কে দ্বৈত মানের অভিযোগ
সাবেক এসি মিলান তারকার মতে, রেফারিং বিতর্ক নিয়ে আলোচনা এখন অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, 'সুযোগ পেলেই মেসির সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। একই ধরনের সিদ্ধান্ত অন্য ম্যাচে ঘটলেও তা নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত যদি মেসি বা আর্জেন্টিনার পক্ষে যায়, তাহলে সমালোচনার মাত্রা অনেক বেড়ে যায়।'
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ইব্রাহিমোভিচ ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের একটি ঘটনার উদাহরণ টানেন। তার মতে, কিলিয়ান এমবাপ্পের প্রথম গোলের আগে ফরাসি মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিওর হ্যান্ডবল হয়েছিল। তিনি বলেন, 'এমবাপ্পের গোলের আগে আমরা স্পষ্ট হ্যান্ডবল দেখেছি। আমার মতে, ওই গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেটি হয়নি।'
ফিফার প্রতি প্রশ্ন
ম্যাচ চলাকালে মরক্কোর খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালেও ভিএআরের পর্যালোচনার পর গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। এ প্রসঙ্গে ইব্রাহিমোভিচ আরও বলেন, 'যারা এতদিন দাবি করছিলেন ফিফা মেসি ও আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে, তারা এখন নীরব।' তার প্রশ্ন, 'যারা বলছিল মেসি ফিফার পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন, তারা এখন কোথায়? মনে হচ্ছে তারা হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে গেছে।'
মেসির প্রতি বিরূপ মনোভাব
ইব্রাহিমোভিচের মতে, পুরো বিষয়টি শুধু রেফারিংয়ের মান বা প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা নিয়ে নয়। বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির দীর্ঘদিনের সাফল্য ও জনপ্রিয়তাকে ঘিরে থাকা বিরূপ মনোভাবও অনেক সমালোচনার পেছনে কাজ করছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি: শনিবার ১১ জুলাই রাত ১টায় স্পেন-বেলজিয়াম (সোফি স্টেডিয়াম, লস অ্যাঞ্জেলেস) এবং রোববার ১২ জুলাই রাত ৩টায় নরওয়ে-ইংল্যান্ড (হার্ড রক স্টেডিয়াম, মায়ামি)।



