কেইনের জোড়া গোলে ইংল্যান্ডের নকআউট জয়
হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর ম্যাচে কঙ্গোকে ২-১ হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের বিবরণ
ম্যাচের মাত্র ৭ মিনিটেই ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে এগিয়ে যায় কঙ্গো। এরপর পুরো ম্যাচ জুড়ে ইংল্যান্ডকে আটকে রাখে কঙ্গোর সংগঠিত রক্ষণভাগ ও গোলকিপার লিওনেল এমপাসি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭৫ মিনিটে হেড থেকে সমতা ফেরান কেইন এবং ৮৬ মিনিটে জয়সূচক গোল করেন। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন কেইন।
কেইনের প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেইন বলেন, ‘সত্যি বলতে দারুণ লাগছে। কী অবিশ্বাস্য একটা ম্যাচ! প্রথমেই বলতে হবে, আমরা খুব কঠিন আর সংগঠিত একটি দলের বিপক্ষে খেলেছি। প্রথম কুলিং বিরতির পর আমরা নিজেদের খেলার মান আরও বাড়িয়েছি। তাদের গোলকিপার অবিশ্বাস্য কিছু সেভ করেছে। আমরা জানতাম চেষ্টা চালিয়ে গেলে মুহূর্ত আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলে সবসময় কেউ না কেউ নায়ক হয়ে ওঠে। এ ধরনের ম্যাচে ধৈর্য ধরে থাকতে হয়। আগের কয়েকটি ম্যাচও প্রায় একই রকম ছিল। চাপ বেশি থাকে। আমাদের নিজেদের খেলাটাই খেলতে হয়। আক্রমণের দিক থেকে এটা এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আমাদের সেরা পারফরম্যান্স। আমরা টুর্নামেন্টের এমন জায়গায় আছি, যেখানে শুধু সুন্দর ফুটবল নয়, কঠিন লড়াই করেও ম্যাচ জিততে হয়। আমি ছেলেদের বলেছি ম্যাচটা উপভোগ করতে। অনেক সময় ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা জেতার আনন্দটা ঠিকভাবে উদযাপন করে না। অন্য সব দেশের মতো আমরাও পরের পর্বে গেছি এটা উপভোগ করা উচিত। পুরো ৯০ মিনিটে আমাদের সামলানো কঠিন ছিল।’
পরিসংখ্যান ও ইতিহাস
পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে গ্যারি লিনেকারের পর প্রথম ইংল্যান্ড ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করলেন হ্যারি কেইন। ইউরো ২০২০ থেকে বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে তার গোল এখন ১০টি। বর্তমান সময়ে ইউরোপের অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে বেশি। তার কাছাকাছি আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, গোল ৭টি। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এই মৌসুমে তার মোট গোল দাঁড়িয়েছে ৭২।
কোচ ও সতীর্থের মন্তব্য
ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল ম্যাচ শেষে কেইনের প্রশংসা করে বলেন, ‘বড় স্ট্রাইকাররা সবসময় পুরো ম্যাচে দৃশ্যমান থাকে না, কিন্তু সঠিক মুহূর্তে আঘাত করতে জানে। কেইনের গোলের ক্ষুধা একজন শিকারির মতো এবং কঠিন সময়ে দলকে বাঁচিয়ে তোলার ক্ষমতাই তাকে আলাদা করে দেয়।’
ম্যাচের পর সতীর্থ অ্যান্থনি গর্ডন বলেন, ‘জয় নিশ্চিত হওয়ার পর দলের সবাইকে এক জায়গায় ডেকে কেইন বলেছিলেন এই জয় টুর্নামেন্ট জেতায়নি, কিন্তু এমন মুহূর্ত উপভোগ করাও জরুরি। তার বিশ্বাস বড় দলগুলো অনেক সময় উদযাপন করতে ভুলে যায়, অথচ এই পথচলার আনন্দও মনে রাখা দরকার।’



