ফুটবলে রূপকথার গল্প লিখে প্রথমবার বিশ্বকাপ মাতাতে এসেছিল কুরাসাও। একটি গোল শোধ দিয়ে জার্মানদের স্তব্ধও করে দিয়েছিল। কিন্তু ক্যারিবিয়ান সাগরের ৪৪৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটির সামনে আক্ষরিক অর্থেই মহাপরাক্রমশালী হয়ে ধরা দিলো জার্মানি। অসম লড়াইয়ে কুরাসাওকে নিয়ে ছেলে খেলা করলো চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গোল উৎসব করে তারা জিতেছে ৭-১ ব্যবধানে।
শুরুর আক্রমণ ও প্রথম গোল
সর্বশেষ দুই আসরে গ্রুপ পর্বে বিদায় নেওয়া জার্মানি ই- গ্রুপে ফেবারিট। কিন্তু আগের ব্যর্থতার গ্লানিতে এবার তাদের লক্ষ্য ছিল নিজেদের প্রমাণের। সেটাই তারা করে দেখালো গ্রুপ ওপেনারে। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা জার্মানি ষষ্ঠ মিনিটে ফেলিক্স এনমেচার গোলে এগিয়ে যায়। দুর্দান্ত সেই গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন ফ্লোরিয়ান ভির্টজ। শুরুর গোলের আগে মুসিয়ালার শট ব্লকড করেছিলেন কুরাসাও গোলকিপার। তার পর ভির্টচের ছোট পাস পথে পড়লে ডান প্রান্তে দর্শনীয় শটে জাল কাঁপান এনমেচা। তাতে কীর্তিও গড়েছেন তিনি। বিশ্বকাপ অভিষেকে গোলের দেখা পেয়েছেন। সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপে অভিষেকে গোলের কীর্তি গড়েছিলেন ম্যাটস হামেলস।
কুরাসাওয়ের প্রথম গোল
প্রথম গোলের পর থেকে বার বার আক্রমণ শাণিয়ে গেছে জার্মানি। ফলে শুরুর দিকে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আক্রমণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে দেড় লাখ জন সংখ্যার ছোট্ট দেশটিকে। যারা এবারই বিশ্বকাপ অভিষেক করেছে। তবে ২১ মিনিটে একটি গোল শোধও দিয়ে জার্মানিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল ৭২ ধাপ পিছিয়ে থাকা কুরাসাও। গোলটি এসেছে দারুণ আক্রমণ থেকে। প্রথমে লোকাদিয়ার শট রুখে দেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার। তখন বলটি গিয়ে পড়ে কোমেনেনসিয়ার কাছে। বাঁ পায়ের জোরালো শটটি কিমিখের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে ম্যানুয়েল নয়ারকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। যার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম গোলের দেখা পায় কুরাসাও। তাতে স্কোর লাইনে চলে আসে সমতাও (১-১)!
জার্মানির পুনরুদ্ধার
২১ মিনিটে গোল হজমের পর ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল জার্মানরা। ৩৮ মিনিটে আবারও ম্যাচে ফেরে শ্লটারবেকের দুর্দান্ত এক হেডে। শুরুতে ব্রাউন কর্নার করেছিলেন। তার পর আনমার্কড শ্লটারবেক হেড করে জালে পাঠান বল। তাতে স্কোর লাইন দাঁড়ায় ২-১। ৪৫+৩ মিনিটে স্কোর ৩-১ করে ফেলে জার্মানি। বক্সে মিডফিল্ডার এনমেচাকে ফেলে দেন কুরাসাওর একজন খেলোয়াড়। তাতে পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পট কিক থেকে গোল করে জার্মানিকে ৩-১ গোলে এগিয়ে দেন হাভার্টজ।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের বন্যা
বিরতির পর তো ছুটেছে জার্মান যন্ত্র। ব্যবধান বাড়তেও সময় লাগেনি। এবার গোলের নেপথ্যে ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের দুই সতীর্থ। ৪৭ মিনিটে দারুণ এক পাসে বলটি ডান দিক দিয়ে বক্সে বাড়িয়ে দেন জুশয়া কিমিচ। সেখানে বল পেয়ে বাঁম প্রান্ত লক্ষ্য করে শট নেন মুসিয়ালা। ৬৮ মিনিটে জার্মানির আরেকটি দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে আসে পঞ্চম গোল। উনদাভের নিখুঁত ছোট্ট ফ্লিক পাস গিয়ে পৌঁছায় ব্রাউনের সামনে, আর সুযোগ হাতছাড়া না করে জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি। ৭৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে স্কোরলাইন ৬-১ করেন উনদাভ। হাভার্টজের পাস থেকে কিমিচ নিজেই শট নিতে পারতেন, কিন্তু বল বাড়িয়ে দেন উনদাভের দিকে। তার নেওয়া শটটি খুব একটা নিখুঁত ছিল না, তবে লিয়ান্দ্রো বাকুনার গায়ে সামান্য ছোঁয়া লেগে বল জালে ঢুকে যায়। তার পর ৮৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যান হাভার্টজ। উনদাভের চমৎকার থ্রু বল ধরে আর্সেনাল ফরোয়ার্ড বক্সে ঢুকে পড়েন এবং অসাধারণ দক্ষতায় গোলরক্ষক রুমের মাথার ওপর দিয়ে বল চিপ করে পাঠান জালে।



