মেক্সিকো ও ইংল্যান্ডের শেষ ষোলোর ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায়। বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৬টায় শুরু হবে এই মহারণ। প্রায় ৮৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়াম বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় ভেন্যু। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটার (৭ হাজার ২০০ ফুটের বেশি) উচ্চতায় অবস্থিত এই মাঠে খেলতে হলে ফুটবল দক্ষতার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতারও কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়।
দলের পারফরম্যান্স
চলতি বিশ্বকাপে মেক্সিকো দারুণ ফর্মে রয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২–০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের যাত্রা শুরু করে তারা। গুয়াদালাহারায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ১–০ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত হওয়ার পথে এগিয়ে যায় এল ত্রি। শেষ গ্রুপ ম্যাচে চেকিয়াকে ৩–০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়। রাউন্ড অব ৩২-এ ইকুয়েডরকে ২–০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠে আসে দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে। চার ম্যাচে আট গোল করে মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা।
ইংল্যান্ডও কম যায়নি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪–২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় দিয়ে শুরু তাদের অভিযান। বোস্টনে ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে তারা। শেষ ম্যাচে নিউ জার্সিতে পানামাকে ২–০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় থ্রি লায়ন্সরা। রাউন্ড অব ৩২-এ আটলান্টায় ডিআর কঙ্গোকে ২–১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়েই শেষ ষোলোর মঞ্চে হাজির হয়েছে ইংল্যান্ড।
তারকা খেলোয়াড়
মেক্সিকোর আক্রমণের প্রাণ সান্তিয়াগো গিমেনেস। প্রতিটি দৌড়, প্রতিটি শট, প্রতিটি স্পর্শে যেন ফুটে ওঠে জয়ের ক্ষুধা। তার পাশে হিরভিং লোসানোর গতি এবং আলেক্সিস ভেগার সৃজনশীলতা প্রতিপক্ষকে ব্যস্ত রাখছে। মাঝমাঠে এদসন আলভারেজ দলের হৃদস্পন্দন। গোলবারের নিচে গিয়ের্মো ওচোয়া বিশ্বকাপ এলেই হয়ে যান অন্য এক মানুষ।
ইংল্যান্ডের গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হ্যারি কেইন। গোল করার পাশাপাশি পুরো আক্রমণকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। জুড বেলিংহাম মাঝমাঠের কবি। তার প্রতিটি পাসে ফুটে ওঠে সৌন্দর্য। বুকায়ো সাকা, ফিল ফোডেন ও ডেকলান রাইস মিলে ইংল্যান্ডের আক্রমণকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছেন।
কোচের বক্তব্য
ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে আত্মবিশ্বাসের সুর। কোচের ভাষায়, ‘বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। মেক্সিকোকে সম্মান করেই আমাদের খেলতে হবে।’ মেক্সিকো কোচও জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ইংল্যান্ড হয়তো বড় নাম, কিন্তু মাঠে নামের কোনো মূল্য নেই। সাহস, পরিশ্রম আর বিশ্বাসই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।’
কৌশল ও সম্ভাবনা
ম্যাচের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হয়তো কৌশলের লড়াই। ইংল্যান্ড বলের দখল রেখে ধীরে ধীরে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে। আর মেক্সিকো অপেক্ষা করবে সেই এক মুহূর্তের, যখন দ্রুত পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষের হৃদয়ে আঘাত হানা যাবে। ফুটবলের আগে থেকে কেউ জানে না শেষ হাসিটা কার। হয়তো কেইনের পায়ে জন্ম নেবে আরেকটি ইংলিশ উৎসব। হয়তো গিমেনেসের এক স্পর্শে উল্লাসে ফেটে পড়বে মেক্সিকো সিটি। এস্তাদিও আজতেকার আলো নিভে যাওয়ার পর একটি দল এগিয়ে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে, অন্য দলের স্বপ্ন থেমে যাবে সেখানেই।



