২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে মঙ্গলবার আটলান্টায় মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। গ্রুপ-এল চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা কঙ্গো। দুই দলের এই প্রথম দেখা, যেখানে একদিকে ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক শক্তি, অন্যদিকে কঙ্গোর ধৈর্যশীল প্রতিরোধ।
ইংল্যান্ডের গ্রুপ পর্ব: শক্তি ও সীমাবদ্ধতা
ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্বে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে নকআউট নিশ্চিত করে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ে আক্রমণের ধার দেখালেও ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র তাদের আক্রমণভাগের অকার্যকারিতা প্রকাশ করে। পানামাকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা গ্রুপ শেষ করে। সামগ্রিকভাবে ৬ গোল করে এবং ২ গোল হজম করে ইংল্যান্ড। তবে খেলার ধার এখনও নির্মমতা ও ধারাবাহিকতা খুঁজছে, যা নকআউটে প্রয়োজন।
হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের ভূমিকা
ইংল্যান্ডের আক্রমণের মূল ভরসা অধিনায়ক হ্যারি কেইন, যিনি গোল করার ক্ষমতা রাখেন। জুড বেলিংহাম মিডফিল্ড থেকে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। নকআউটে প্রতিভার পাশাপাশি সাহস ও সুযোগের সদ্ব্যবহার জরুরি। কোচ টমাস টুখেলের দলে ডেকলান রাইস ফিরতে পারেন, যা মাঝমাঠে শক্তি বাড়াবে। তবে ডান প্রান্তে চোটের কারণে তুখেলকে নতুন সমীকরণ সাজাতে হতে পারে।
কঙ্গোর ৫২ বছরের অপেক্ষা
কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ১৯৭৪ সালে জায়ের নামে প্রথম বিশ্বকাপ খেলে, যেখানে তিন ম্যাচে তিন হার ছিল তাদের ভাগ্য। এরপর ৫২ বছর পর তারা বিশ্বকাপে ফিরেছে এবং প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে পৌঁছেছে। গ্রুপ পর্বে তারা পর্তুগালের বিপক্ষে ০-০ ড্র করে, কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারে এবং শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে। দলটির শক্তি তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও পাল্টা আক্রমণ।
কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রের কৌশল
কঙ্গোর কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রে দলকে গড়ে তুলেছেন ধৈর্য ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে। দল বলের পেছনে ছুটে না গিয়ে প্রতিপক্ষকে জায়গা না দিয়ে খেলা ধীর করে এবং সুযোগ পেলে আচমকা আঘাত করে। এই কৌশল ইংল্যান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
আবেগের গল্প: ওয়ান-বিসাকা, রাশফোর্ড ও তুয়ানজেবে
ম্যাচটিতে আবেগের গল্পও আছে। অ্যারন ওয়ান-বিসাকা লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলে খেলেন, পরে কঙ্গোকে বেছে নেন। এখন তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন। অন্যদিকে মার্কাস রাশফোর্ড ও অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে একসময় ইংল্যান্ডের একই পথে ছিলেন, কিন্তু আজ তারা দুই ভিন্ন জার্সিতে মুখোমুখি হবেন। এই গল্প ফুটবলের অপ্রত্যাশিত চিত্রনাট্যের উদাহরণ।
ম্যাচের সম্ভাব্য নাটক
ইংল্যান্ডের দ্রুত আক্রমণের বিপরীতে কঙ্গোর ধৈর্যশীল রক্ষণ ও পাল্টা আক্রমণ ম্যাচের মূল দ্বন্দ্ব। বলের দখল বনাম প্রতিরোধ—এই লড়াই রাতের সবচেয়ে বড় নাটক তৈরি করতে পারে। দুই দলের আগে কখনও দেখা না হওয়ায় ম্যাচে কোনো প্রতিশোধ বা অসমাপ্ত ইতিহাস নেই, শুধু প্রথম সাক্ষাৎ। আটলান্টার আলোয় এক দল হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চাইবে, আরেক দল বিশ্বকে চমকে দিতে চাইবে।



