যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মাল্টা শহরের বাসিন্দা ড্যান রায়ান টানা কয়েক দশক ধরে রক্ত দান করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন। ২০২৫ সালের ২৪ জুন তিনি পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রক্তদানের রেকর্ডের স্বীকৃতি পান।
৪৬ বছরে ৩০ গ্যালনের বেশি রক্তদান
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ৬৯ বছর বয়সী ড্যান রায়ান ৪৬ বছর ধরে ৩০ গ্যালনের বেশি (প্রায় ১১৩ দশমিক ৫৬ লিটার) রক্ত দিয়েছেন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে সাধারণত ১ দশমিক ২ থেকে ১ দশমিক ৫ গ্যালন রক্ত থাকে। সেই হিসাবে ড্যান বিভিন্ন সময়ে নিজের শরীরে থাকা রক্তের পরিমাণের চেয়ে অনেক গুণ বেশি রক্ত দান করেছেন।
শুরুটা ভাইয়ের উৎসাহে
১৯৮০ সালে প্রথম রক্ত দান করেন ড্যান। তাঁর প্রয়াত ভাই নিজেও নিয়মিত রক্তদাতা ছিলেন। সেই ভাই থেকে তিনি রক্ত দিতে উৎসাহিত হন। তবে শুরুতে ড্যান রক্ত দিতে রাজি ছিলেন না। কারণ, সুচের প্রতি তাঁর ভয় ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমার ভাই আমাকে “ভিতু” বলেছিলেন। এতে আমার জেদ চেপে বসেছিল।’
প্রথম রক্তদানের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে ড্যান বলেন, ‘সুচ ঢোকানোর সময় আমার হৃৎস্পন্দন খুব বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে বুঝেছি, যতটা ভয় পেয়েছিলাম, আসলে ঘটনা তেমনটা ছিল না।’
এর পর থেকে নিয়মিত রক্ত দেওয়া শুরু করেন ড্যান। গত ৪৬ বছরে ম্যালেরিয়ার ওষুধ খাওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে তিন বছর রক্ত দিতে পারেননি তিনি।
গিনেসের স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
গিনেসের স্বীকৃতিকে ‘অবিশ্বাস্য’ মন্তব্য করে ড্যান বলেন, ‘আমি কখনো জানতাম না, সবচেয়ে বেশি রক্ত দেওয়ারও একটি বিশ্ব রেকর্ড আছে। পরে হঠাৎ জানতে পারি, তখনকার রেকর্ডধারীর চেয়ে আমি বেশি রক্ত দিয়েছি। এরপর আবেদন করি।’
ড্যান বলেন, তাঁর রেকর্ডের খবর জানার পর তাঁর ২০ বছর বয়সী নাতনি এখন নিয়মিত রক্তদাতা হতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘হয়তো একদিন তিনি নারীদের রক্তদানের বিশ্ব রেকর্ড গড়বেন।’
পূর্ববর্তী রেকর্ডধারী
ড্যানের আগে পুরুষদের মধ্যে সর্বাধিক রক্তদানের গিনেস রেকর্ডটি ছিল ভারতের পরিতোষ বাগাইয়ের দখলে। ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ২৪১ ইউনিট রক্ত দান করেছিলেন।



