কোর্তোয়ার চোটে বদলে গেল ম্যাচ, স্পেনের সেমিফাইনাল নিশ্চিত
কোর্তোয়ার চোটে বদলে গেল ম্যাচ, স্পেনের সেমি নিশ্চিত

শনিবার (১১ জুলাই) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার চোট ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে একটি দূরপাল্লার কিক নিতে গিয়ে পায়ে টান লাগে কোর্তোয়ার। শতভাগ ফিট না থাকায় ৭১তম মিনিটে কোচ রুডি গার্সিয়া তাকে তুলে ২১ বছর বয়সী সেনে ল্যামেন্সকে মাঠে নামান। কোর্তোয়া আরও কিছুক্ষণ খেলতে চাইলেও কোচের সিদ্ধান্ত মেনে নেন।

বদলি গোলরক্ষকের ভুল

৮৬তম মিনিটে ঘটে সেই ট্র্যাজেডি। স্পেনের পাউ কুবার্সির নেওয়া একটি নিচু শট সঠিকভাবে তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন তরুণ ল্যামেন্স। তার হাত থেকে ফসকানো রিবাউন্ড বলে আলতো টোকা দিয়ে স্পেনের জয়সূচক গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনো। এই ভুলের কারণে বেলজিয়াম স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হেরে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যায়।

কোর্তোয়ার প্রতিক্রিয়া

কোর্তোয়া জানান, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটি লং কিক নেওয়ার সময় ঊরুর সামনের পেশিতে ব্যথা অনুভব করেছিলেন। এরপর কয়েকটি সেভ করলেও আবার লং কিক নেওয়ার সময় ব্যথা বাড়ে। তবে তার বিশ্বাস ছিল, অন্তত আরও কিছুক্ষণ খেলা চালিয়ে যেতে পারতেন। তিনি বলেন, ‘ঊরুর সামনের পেশিতে অনেক ব্যথা ছিল। কিন্তু গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে থাকতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না, শুধু লং কিক নিতে সমস্যা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত কোচই আমাকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অবশ্য তাতে কোর্তোয়া অসন্তুষ্ট নন। বরং দলের স্বার্থ সবার আগে বলে মনে করেন তিনি। ম্যাচ শেষে ল্যামেন্স যখন কান্নায় ভেঙে পড়েন, তখন বড় ভাইয়ের মতো তাকে আগলে নেন কোর্তোয়া। তিনি বলেন, ‘আমি সেনেকে জড়িয়ে ধরেছি। আমি জানি গোলরক্ষকদের জন্য এটা কতটা খারাপ একটা অনুভূতি। কিন্তু সে একজন দারুণ গোলরক্ষক, এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ও আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোচের ব্যাখ্যা

তাকে তুলে নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়াকে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আমার ভাবনা ছিল শতভাগ ফিট নয়, এমন খেলোয়াড়কে মাঠে না রাখা। আজ কোর্তোয়ার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।’

কোর্তোয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এদিকে পরের বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, আপাতত অজানা। তবে আগামী এক বছর বেলজিয়াম দল থেকে বিশ্রাম নিতে চান কোর্তোয়া। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি এক বছর বেলজিয়ামের হয়ে কোনো ম্যাচ খেলতে চাই না। এরপর ইউরো বাছাইপর্ব এবং ২০২৮ ইউরোতে খেলতে চাই। বেলজিয়াম এ ব্যাপারে রাজি হবে কি না, জানি না।’ কোর্তোয়ার এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোচ গার্সিয়া বলেন, তিনি বা তার দলের খেলোয়াড়েরা এ বিষয়ে অবগত নন।