ইবোলা বিপর্যস্ত কঙ্গোর জন্য ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ পয়েন্ট
কঙ্গোর ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ পয়েন্ট উদযাপন

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে একটি গোল, একটি পয়েন্ট হয়তো খুব বড় কিছু নয়। কিন্তু ইবোলা প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত কঙ্গোর জন্য এটি ছিল ঐতিহাসিক ক্ষণ। পর্তুগালের বিপক্ষে ড্র করে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জনের কীর্তি গড়েছে তারা। আর সেই অর্জনে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুনিয়ায় দেখা গেছে আনন্দের জোয়ার।

বুধবার হিউস্টনে শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে কঙ্গো। ম্যাচে দলের হয়ে ঐতিহাসিক গোলটি করেন ইওয়ানে উইসা। এটি ছিল বিশ্বকাপে কঙ্গোর প্রথম গোল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব নিউক্যাসলের হয়ে খেলা উইসার গোলে এসেছে মূল্যবান একটি পয়েন্ট। আর সেই সাফল্য উদযাপন করেছে পুরো বুনিয়া শহর। অথচ বর্তমানে দেশটির ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল এই বুনিয়া।

কোচের গর্ব

ম্যাচ শেষে কঙ্গোর ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রে বলছিলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। তারা কঙ্গোকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছে এবং পুরো দেশই এই সাফল্যের যোগ্য।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তার এই মন্তব্যের প্রতিফলন দেখা গেছে বুনিয়ার রাস্তায় রাস্তায়। ইটুরি প্রদেশের রাজধানী শহরটি দেশটির ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সবচেয়ে বড় ধাক্কা সামলাচ্ছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩৭ জন। প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৬ জন। তার মধ্যে শুধু বুনিয়াতেই শনাক্ত হয়েছে ২১৫টি সংক্রমণের ঘটনা, যদিও সীমিত পরীক্ষার কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

উদযাপনে মাতোয়ারা বুনিয়া

এমন পরিস্থিতিতে হাতে গোনা কয়েকটি সচল টেলিভিশনে দেখা বিশ্বকাপ স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। উইসার গোলের পর শহরজুড়ে শুরু হয় উচ্ছ্বাসের জোয়ার। টিনের ছাউনি দেওয়া দোকানের সামনে তরুণরা হাত উঁচিয়ে লাফাতে থাকেন। মোটরসাইকেলে স্টান্ট দেখিয়ে উৎসবে যোগ দেন অনেকে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মে মাসের শেষ দিকে ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে ৫০ জনের বেশি মানুষের সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ঐতিহাসিক ম্যাচের রাতে শহরের বারগুলো ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

একটি বারে টেলিভিশনে খেলা দেখতে আসা অ্যান্টোয়েনেট মাকাসি নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘নিজের দেশকে সমর্থন করতে পারা গর্বের বিষয়।’ তবে ভিড় নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি। সামাজিক দূরত্ব না মানার বিষয়টি নিয়ে চিন্তার কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘বাড়ি ফিরেই আমি নিজেকে জীবাণুমুক্ত করবো।’

অতীতের স্মৃতি

উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে জায়ার নামে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল কঙ্গো। সেবার কোনো পয়েন্ট নিতে পারেনি তারা। উল্টো ১৪ গোল হজম করে দেশে ফিরেছিল।