বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ধারে-ভারে আর দশটা দলের থেকে বরাবরই এগিয়ে থাকে লাতিন এই পরাশক্তি। যে কোনো টুর্নামেন্টে হলুদ জার্সিধারীদের চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়া যেন আর কোনো ফলাফলে মান বাঁচে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেসব এখন কেবল ইতিহাস।
বিদেশি কোচ নিয়োগেও ভাগ্য বদলাল না
সর্বশেষ চলমান বিশ্বকাপের আগে প্রথা ভেঙে বিদেশি কোচ নিয়োগ দিয়েও ভাগ্য খুব একটা পাল্টাল না। উল্টো কোয়ার্টারের আগেই ছিটকে যেতে হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ৩৬ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স এবারের আসরে। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে সেলেসাওদের।
গত ৯টি বিশ্বকাপ ধরে ব্রাজিল অন্তত শেষ আট বা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা নিশ্চিত করে আসছিল। কার্লো আনচেলত্তির দল এবার সেই ধারাবাহিকতাও ধরে রাখতে পারেনি। এর আগে ১৯৯০ সালে ইতালি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে শেষ ষোলোর ম্যাচে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। এরপর আর কখনোই কোয়ার্টার ফাইনালের আগে থামেনি তারা। ৩৬ বছর পর নরওয়ে যেন ফিরিয়ে আনল সেই ১৯৯০ সালের দুঃস্মৃতি।
২০০৬ থেকে ২০২২: কোয়ার্টার ফাইনালের ধারাবাহিকতা
২০০৬, ২০১০, ২০১৮ এবং ২০২২—এই চারবারই তাদের দৌড় থেমেছিল শেষ আটে। ঘরের মাঠে ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে সেই দুঃস্বপ্নের ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার ম্যাচেও তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিল। কিন্তু এবার শেষ ষোলোতেই আটকা পড়ল আনচেলত্তির দল। নেইমারের অশ্রুসজল বিদায় আর মাঠের ছন্নছাড়া ফুটবল মিলে ২০২৬ বিশ্বকাপ এখন ব্রাজিলের জন্য আরেকটা দীর্ঘশ্বাস হয়েই থাকল। একই সঙ্গে ২০০২ বিশ্বকাপের পর থেকে নকআউটে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে জয়টাও অধরাই থেকে গেল ব্রাজিলের।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ইতিহাস: ১৯৯০-২০২৬
- ১৯৯০—শেষ ষোলো
- ১৯৯৪—বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন
- ১৯৯৮—রানার্স-আপ
- ২০০২—বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন
- ২০০৬—কোয়ার্টার ফাইনাল
- ২০১০—কোয়ার্টার ফাইনাল
- ২০১৪—সেমিফাইনাল
- ২০১৮—কোয়ার্টার ফাইনাল
- ২০২২—কোয়ার্টার ফাইনাল
- ২০২৬—শেষ ষোলো
ব্রাজিলের এই ব্যর্থতা ফুটবল বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা।



