নিউ জার্সির সংবাদ সম্মেলনে ম্যাথিয়াস কুনিয়া আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন, পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবার নতুন গল্প লিখতে মাঠে নামবে। ‘ইউরোপীয় ভূত’ নামে পরিচিত এই বাধা কাটাতে তারা প্রস্তুত। বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের ইতিহাস ভালো নয়—চার সাক্ষাতে একবারও জয় পায়নি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নরওয়ের ২-১ গোলের জয়টি তাদের ফুটবল ইতিহাসে সেরা মুহূর্তগুলোর একটি। কুনিয়া বলেন, ‘অতীতের ভূত তাড়াতে মাঠে নিজেদের কাজটা করতেই হবে। আশা করি এবার আমরা নতুন গল্প লিখতে পারব।’
ইউরোপীয় বাধার ইতিহাস
২০০৬ বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিল প্রতিবারই ইউরোপের দলের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে। ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়া—প্রত্যেকটি বিশ্বকাপে ‘হেক্সা’ স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। এবার শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে। অতীতের পরিসংখ্যান ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য উদ্বেগের কারণ। তবে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে জাপানকে হারানোর পর ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। কোচ আনচেলত্তির অধীনে আক্রমণে ধার বাড়ার পাশাপাশি রক্ষণও জমাট হচ্ছে।
রক্ষণ ও আক্রমণের ভারসাম্য
আক্রমণে ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও কুনিয়া ব্রাজিলের ‘ফলা’ হিসেবে কাজ করছেন, আর রক্ষণে দানিলো ও দগলাস সান্তোসরা ‘বর্ম’। দগলাস সান্তোস বলেন, ‘নরওয়েকে হারাতে না পারার যে কলঙ্ক, সেটা ঘুচিয়ে ফেলা আমাদের জন্য বাড়তি প্রেরণা হতে পারে।’ কুনিয়া নিজেও রক্ষণে অবদান রাখছেন; শুক্রবারের অনুশীলনে তাকে সেট পিস ঠেকাতে দেখা গেছে। মরিসটাউনের অনুশীলনে উপস্থিত ১৫ জন নরওয়েজিয়ান সাংবাদিকের মাধ্যমে এই তথ্য নরওয়ে শিবিরে পৌঁছে গেছে।
হলান্ডের চ্যালেঞ্জ
নরওয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে ম্যাচটি মূলত আর্লিং হলান্ড বনাম ব্রাজিলের রক্ষণভাগ। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই স্ট্রাইকারকে ঠেকাতে প্রিমিয়ার লিগ ও বুন্দেসলিগার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন কুনিয়া ও গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস। তবে তার আগে ব্রাজিলের মাঝমাঠের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে বড় ধাক্কা লেগেছে। মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা চোটে ছিটকে পড়েছেন। তার জায়গায় কে খেলবেন—কোচ আনচেলত্তি তা গোপন রাখলেও অনুশীলনে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে দেখা গেছে। জাপান ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের একাদশ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে অনুশীলন করান আনচেলত্তি।
আনচেলত্তির ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ
আনচেলত্তির জন্য হলান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জও আছে। ক্লাব ফুটবলে আটবার মুখোমুখি হয়ে তিনি জিতেছেন ও হেরেছেন দুবার করে, ড্র চারবার। অন্যদিকে, নরওয়ের কিংবদন্তি কেইটেল রেকডালের মাথাব্যথা নেই এই নিয়ে। ২৮ বছর আগে বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্রাজিলের হার নিশ্চিত করা রেকডাল মনে করেন, নরওয়ে এ ম্যাচে এগিয়ে থাকবে এবং ব্রাজিলই বেশি চাপে থাকবে। তবে এ বিশ্বকাপে ব্রাজিল প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করে বল কেড়ে গোল আদায়ে সবার ওপরে—এখন পর্যন্ত ৯ গোলের চারটিই এভাবে করেছে।
নরওয়ের দুশ্চিন্তা
নরওয়ে কোচ স্তালে সলবাক্কেনের দুশ্চিন্তার জায়গা হলো তাদের রক্ষণভাগের বক্সের আশপাশে বল হারানোর প্রবণতা। আরও একটি বিষয়, ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে নেইমার নামতে পারেন। ইউরোপীয় ভূত তাড়াতে ব্রাজিল সম্ভবত কিছুই বাদ রাখবে না।



