বুট বিক্রি করা ছেলেটি আজ প্যারাগুয়ের স্বপ্নের প্রহরী অরল্যান্ডো গিল
বুট বিক্রি করা ছেলেটি আজ প্যারাগুয়ের স্বপ্নের প্রহরী

প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের জীবন সংগ্রামের গল্প এখন বিশ্বজুড়ে আলোচিত। ২০০০ সালের ১১ জুন সান লরেঞ্জো শহরে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার শৈশবে পরিবারের খাবারের জোগান দিতে নিজের ফুটবল বুট এবং জাতীয় দলের জার্সি পর্যন্ত বিক্রি করেছিলেন। আজ তিনি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি ঠেকিয়ে প্যারাগুয়েকে ইতিহাস গড়তে সাহায্য করেছেন।

শৈশবের সংগ্রাম

অরল্যান্ডো ড্যানিয়েল গিল নোলদিনের পরিবার ছিল সাধারণ। অভাবের কারণে তাকে প্রায়ই ফুটবল ও পরিবারের মধ্যে বেছে নিতে হতো। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতে আমাকে দেওয়া ক্লাবের পোশাক, ফুটবল বুট, এমনকি বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের জার্সিও বিক্রি করতে হয়েছিল।’ অনেকেই স্বপ্নের জন্য পরিবার ছেড়ে যায়, কিন্তু গিল পরিবারের জন্য নিজের স্বপ্নের অংশ বিক্রি করেছিলেন। তবু তিনি ফুটবল ছাড়েননি।

ফুটবল যাত্রা শুরু

স্থানীয় ক্লাব তেরো দে জুনিওতে তার প্রথম ফুটবল পাঠ শুরু হয়। পরে স্পোর্তিভো সান লরেঞ্জোর বয়সভিত্তিক দলে যোগ দেন। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে ছিল অসাধারণ স্থিরতা। গোলকিপারের অবস্থান থেকে তিনি বুঝতেন একটি সেভ কখনও একটি গোলের চেয়েও বড়। কৈশোরে বন্ধুরা এগিয়ে গেলেও তিনি থেকে যান, অনুশীলন চালিয়ে যান এবং বদলি বেঞ্চে বসেও হাল ছাড়েননি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পেশাদার অভিষেক ও ক্যারিয়ারের মোড়

২০১৯ সালে স্পোর্তিভো সান লরেঞ্জোর হয়ে পেশাদার অভিষেক হয়। একই সময়ে তিনি প্যারাগুয়ের অনূর্ধ্ব-২০ দলে ডাক পান। ২০২৩ সালের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার ক্লাব সান লরেঞ্জো দে আলমাগ্রোয় যোগ দেন, প্রথমে ধারে এবং সংরক্ষিত দলে। ১ মিটার ৯৮ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই গোলরক্ষকের মূল শক্তি হলো অপেক্ষার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ও চাপের মধ্যে শান্ত থাকা। ওয়ান টু ওয়ান, কর্নার ও পেনাল্টিতে তিনি নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জাতীয় দলে অভিষেক ও বিশ্বকাপে সাফল্য

২০২৫ সালে প্রথমবার প্যারাগুয়ে জাতীয় দলে ডাক পান এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পেরুর বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে দল ১-০ ব্যবধানে জেতে। বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে গিল ধারাবাহিকভাবে বল ঠেকিয়ে প্যারাগুয়েকে বাঁচিয়ে রাখেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে ১২০ মিনিটের পর টাইব্রেকারে তিনি একটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন।

কিংবদন্তির প্রশংসা

প্যারাগুয়ের কিংবদন্তি গোলকিপার হোসে লুইস চিলাভের্ত একবার মন্তব্য করেছিলেন, ‘গিল খুব কম কথা বলেন।’ গিলের উত্তর ছিল অন্যরকম—তিনি কথা বলেননি, বরং বল ঠেকিয়েছেন। অরল্যান্ডো গিল একদিন পরিবারের জন্য বুট বিক্রি করেছিল, আজ সেই হাতেই ধরে রেখেছে একটি দেশের স্বপ্ন। সব নায়ক গোল করেন না, কিছু নায়ক শুধু গোল হতে দেন না।