হারারে টেস্টের প্রথম দিনটি বাংলাদেশের জন্য ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই ব্যর্থ হয়েছে টাইগাররা। বাংলাদেশকে মাত্র ১৪০ রানে গুঁটিয়ে দিয়ে প্রথম দিন শেষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। ৯ উইকেট হাতে নিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে মাত্র ৪ রানে পিছিয়ে থেকে দিন শেষ করেছে তারা।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্রুতই বিদায় নিতে হয় ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়কে, যিনি ১৭ বল খেলে মাত্র ২ রান করেন। এরপর সাদমান ইসলামকে নিয়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন মুমিনুল ইসলাম, কিন্তু সাদমান ২০ রান করে ফিরে যান।
এরপর দলের হাল ধরেন মুমিনুল ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনের ৭৭ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। কিন্তু মুমিনুল ৬০ রান করে বিদায় নিলে ধস নামে টাইগারদের ইনিংসে। ৭৩ বলে ১৯ রান করে ফেরেন শান্তও। এরপর আর কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। মুশফিকুর রহিম, তাওহিদ হৃদয়, অমিত হাসানরা সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। এতে মাত্র ১৪০ রানে গুঁটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের বোলিং নৈপুণ্য
জিম্বাবুয়ের হয়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন নিউম্যান নিয়ামহুরি। ২টি করে উইকেট তুলেছেন ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভা এবং ব্র্যাড ইভান্স। তাদের বোলিং তোপের মুখে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ দাঁড়াতে পারেনি।
জবাবে জিম্বাবুয়ের দাপুটে শুরু
জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের উপর ছড়ি ঘোরান জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা। দুই ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া এবং বেন কারান শুরু থেকেই ভালো ব্যাটিং করেন। ৫১ বলে ৪২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন কারান। শেষ বিকেলে ক্রিজে নামেন ব্রেন্ডন টেইলর। আর উইকেট হারায়নি জিম্বাবুয়ে। ১ উইকেটে ১৩৬ রান তুলে দিনের খেলা শেষ করে তারা। হাতে ৯ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে মাত্র ৪ রানে পিছিয়ে জিম্বাবুয়ে। ৪৫ বলে ১৭ রান করে টিকে আছেন টেইলর। ১০৮ বলে ৭৬ রান করে অপরাজিত আছেন কাইয়া।
প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের অবস্থা খুবই নাজুক। জিম্বাবুয়ে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের স্কোরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং তাদের হাতে এখনও ৯ উইকেট রয়েছে। বাংলাদেশের বোলারদের দ্বিতীয় দিনে দারুণ কিছু করতে হবে, অন্যথায় জিম্বাবুয়ে বড় লিড নিতে পারে।



