বিসিবি বোর্ড ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠন: ১১ সদস্যের পরিচয়
গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠার পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন করে বিসিবি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বোর্ড পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে একটি অ্যাডহক কমিটি, যেখানে মোট ১১ জন সদস্য রয়েছেন।
তামিম ইকবালের নেতৃত্বে কমিটি
অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি সাবেক ক্রিকেটার ও প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তিনি দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ওপেনার হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচনে প্রার্থীতা করার ইচ্ছা থাকলেও অনিয়মের অভিযোগে তিনি সরে দাঁড়িয়েছিলেন। অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ার পর এনএসসি বোর্ড ভেঙে দেওয়ায়, তামিম ইকবালকেই এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য বোর্ড প্রধান করা হয়েছে।
অন্যান্য সদস্যদের তালিকা
কমিটিতে আরও যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
- জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু
- সাবেক তারকা ক্রিকেটার আতহার আলী খান
- ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম
- ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস, যিনি ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা
- কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে সৈয়দ ইব্রাহীম আহমেদ
- অর্থমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু
- ইস্পাহানী লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তা মির্জা সালমান ইস্পাহানি
- ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবু
- বিসিবির প্রয়াত সাবেক পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং বডির সাবেক চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহার ছেলে ও বিসিবির সাবেক পরিচালক ফাহিম সিনহা
- ক্লাব ক্রিকেটের সফল দল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের কর্ণধার ও বিসিবির সাবেক পরিচালক তানজিল চৌধুরী
নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এনএসসি-এর এই সিদ্ধান্তের ফলে বিসিবির নিয়মিত কার্যক্রম সাময়িকভাবে অ্যাডহক কমিটির অধীনে চলবে। কমিটির মূল লক্ষ্য হবে আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। এই সময়ে তারা বোর্ডের দৈনন্দিন কার্যক্রম তদারকি করবেন এবং নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করবেন। ক্রিকেট প্রশাসনে এই পরিবর্তন দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



