নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: সিলেট থেকে শুরু হচ্ছে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' শুরু হতে যাচ্ছে। এটি শিশু-কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করার একটি নতুন আঙ্গিকের উদ্যোগ। তিনি সোমবার (৩০ মার্চ) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ক্রীড়াভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা জানান।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নতুন উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান 'নতুন কুঁড়ি' ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি এক পর্যায়ে অনেক বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে, শিশু-কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'। এটি একটি জাতীয় পর্যায়ের উদ্যোগ, যা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন
২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো।' জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয়, বরং সারাবিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্রীড়াকে পেশাদার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
অনুষ্ঠানের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও পুরস্কার প্রদান করা হয়, যা ক্রীড়া ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও গুরুত্ব
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হবে। এটি শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং একটি সামগ্রিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যেখানে তরুণরা তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ঘোষণা দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।



