ক্রীড়াঙ্গনে দলীয়করণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
ক্রীড়াঙ্গনে দলীয়করণ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার ঘোষণা

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে চলা দলীয়করণ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ২০০৮ সাল থেকে এইসব অপকর্মের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংসদ অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

রবিবার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তার বক্তব্যে ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

দলীয়করণ ও রাজনীতিকীকরণের ইতিহাস

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আপনারা সবাই জানেন যে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ২০০৮ সাল থেকে ক্রিকেট বোর্ডসহ বাংলাদেশের সব স্পোর্টসকে দলীয়করণ এবং রাজনীতিকীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন ধ্বংসের পথে চলে গিয়েছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, “সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে ক্রীড়াঙ্গনকে নতুনভাবে দলীয়করণমুক্ত ও রাজনীতিমুক্ত করার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে চলেছি।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত কমিটি গঠন ও ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি

প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “বিগত ২০০৮ সাল থেকে এই দলীয় সুযোগ সুবিধার মাধ্যমে যাদের অবৈধ নিয়োগ হয়েছে, সেগুলো আমরা দ্রুতই একটি তদন্ত কমিটি করে এর সঙ্গে জড়িতদের আমরা জাতির সামনে নিয়ে আসবো।” তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিষয়টি উল্লেখ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তার মতে, বিসিবির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ভোটের অধিকার হরণের জন্য একটি গ্রুপকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে অপকর্মে জড়িত হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, “বোর্ডের যারা এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত সম্পদ তদন্ত

ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নেওয়ার বিষয়েও প্রতিমন্ত্রী সচেতনতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “দুদকের মহাপরিচালকের প্রতি আহ্বান করবো— এ বিষয়ে কোনও তদন্ত, কোনও কিছু থাকলে তিনি আমাদেরকে অবগত করুন যাতে জাতির সামনে এগুলো উপস্থাপিত হয়।”

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণা ক্রীড়াপ্রেমী ও সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।