বিসিবি সভাপতি বুলবুলের ঢাকায় প্রত্যাবর্তন, তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হওয়ার সম্ভাবনা
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। শনিবার (২৮ মার্চ) মধ্যরাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে ঢাকায় অবতরণ করেন তিনি। বিসিবির একাধিক পরিচালক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত রোজার আগেই অনেকটা নিভৃতে দেশ ছাড়েন বিসিবি সভাপতি। দীর্ঘ সময় তার অনুপস্থিতি এবং প্রবাস থেকে দায়িত্ব পালন নিয়ে ক্রিকেট মহলে তীব্র জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছিল।
ফেরার সময় ও তাৎপর্য
বোর্ড কর্তারা জানিয়েছিলেন, ঈদের ছুটির পর ২৬ বা ২৭ মার্চ তার ফেরার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের দুদিন পর ২৯ মার্চ তিনি ঢাকায় পৌঁছালেন। বিসিবি সভাপতির এমন সময়ে ফেরাটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে গত অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনাঙ্গন ও ক্রিকেট পাড়ায় উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঢাকার বিভিন্ন ক্লাব এবং জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার একঝাঁক সংগঠক ওই নির্বাচনকে ‘অবৈধ ও অস্বচ্ছ’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ ও তদন্ত
তাদের অভিযোগ, নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ ও ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এনএসসি। আগামী এপ্রিলের প্রথম ভাগেই এই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়াটি বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে কমিটি ইতিমধ্যে অনলাইনে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
বুলবুলের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
তবে এখন তিনি সশরীরে ঢাকায় আসায়, কমিটির সামনে তাকে হাজির হয়ে সরাসরি বক্তব্য প্রদানের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া গত অক্টোবরের নির্বাচনে নিয়মবহির্ভূতভাবে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাছে কাউন্সিলরশিপ চাওয়ার বিষয়টিও তদন্ত কমিটির বিশেষ নজরে রয়েছে। বিসিবি সভাপতির ফেরা এবং আসন্ন তদন্ত প্রতিবেদনের ওপরই এখন নির্ভর করছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের পরবর্তী পরিস্থিতি।
এই ঘটনাটি ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বুলবুলের প্রত্যাবর্তন এবং তদন্ত কমিটির সামনে তার উপস্থিতি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় সৃষ্টি করতে পারে।



