বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম তদন্তে স্বাধীন কমিটি গঠন করল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ
বিসিবি নির্বাচন তদন্তে স্বাধীন কমিটি গঠন

বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম তদন্তে স্বাধীন কমিটি গঠন করল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক নির্বাচনে অনিয়ম, কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। ঢাকার বিভিন্ন ক্লাব, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কমিটির গঠন ও দায়িত্ব

সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন অতিরিক্ত সচিব সেলিম ফকির, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার নাসিরুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক এ টি এম সাইদুজ্জামান এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আকরাম সম্রাট। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাধীন এই কমিটি গত বছরের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবির পরিচালক নির্বাচন নিয়ে ওঠা অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। মনোনয়নপ্রক্রিয়া বিসিবির গঠনতন্ত্র ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় দলিল সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য গ্রহণ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে কমিটি।

অভিযোগ ও তদন্তের প্রেক্ষাপট

গত বছর অক্টোবরে বিসিবি নির্বাচনে ২৫ জন পরিচালক মনোনীত হন, পরে পরিচালকদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম। তবে নির্বাচনের আগে থেকেই সরকারি হস্তক্ষেপ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলছিল ঢাকার বিভিন্ন ক্লাব ও জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলরদের একটি অংশ।

গত রোববার জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ ঢাকার ক্লাবগুলোর কাউন্সিলররা এনএসসির কাছে নির্বাচনের অস্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ জানান এবং স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান। সর্বশেষ বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে ওল্ড ডিওএইচএসের কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়নপত্র তুললেও নির্বাচনে অস্বচ্ছতার অভিযোগ জানিয়ে পরে আরও কয়েকজন পরিচালক প্রার্থীর সঙ্গে তামিমও সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

ঢাকার ক্লাবগুলোর পর গতকাল ঢাকার জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার একটি অংশও এনএসসিতে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ জানান। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ক্লাব বা সংস্থার কাছ থেকে ব্যাখ্যা তলব করতে পারে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছে।

ভবিষ্যতের জন্য পরামর্শ

কমিটির কাছে ভবিষ্যতে বিসিবি নির্বাচনে কাউন্সিলর মনোনয়নপ্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে–সংক্রান্ত পরামর্শও চাওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ ক্রিকেট প্রশাসনে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।