খেলার মাঠ উন্নয়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা চাইলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
খেলার উন্নয়নে ব্যাংকের ভূমিকা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী

খেলার উন্নয়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণ চাইলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

দেশের খেলাধুলার সার্বিক উন্নয়ন ও খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে দেশের শীর্ষ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।

সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি ব্যক্তিখাতের অবদান অপরিসীম

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলার মাঠ উন্নয়নে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি ব্যক্তিখাত, বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সব ফেডারেশন আর্থিকভাবে সমানভাবে সচ্ছল নয়। এমন পরিস্থিতিতে তাদের সহযোগিতার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "আপনাদের নিয়মিত স্পনসরশিপের মাধ্যমে প্রতিটি খেলার সঙ্গে জড়িত থাকা উচিত এবং খেলার মাঠের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত।" তিনি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

খেলোয়াড়দের জীবনমান উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণে পদক্ষেপ

খেলোয়াড়দের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমরা খেলাধুলাকে একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছি। জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের একটি নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় আনার জন্য একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।"

এছাড়াও, প্রতিমন্ত্রী জানান, মৌলিক পর্যায় থেকে মেধাবী খেলোয়াড় খুঁজে বের করার জন্য 'নিউ বাডিং স্পোর্টস' কর্মসূচি পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের পরপরই সারাদেশে চালু করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে তাদের উন্নয়নে কাজ করা হবে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিবাচক সাড়া

সভায় উপস্থিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীরা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং একজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা দেশের খেলার মাঠকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার দৃঢ় সংকল্পও ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, এই মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং খেলাধুলার উন্নয়নে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। সরকারি ও ব্যক্তিখাতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের ক্রীড়া অঙ্গনকে আরও গতিশীল ও পেশাদার করে তোলার লক্ষ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।