ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তৃতীয় পরিচালনা পর্ষদ সভায় বড় চমক দিলেন কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। আজ অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার গত ৫০ বছরের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট।
রেকর্ড বাজেট অনুমোদন
আগামী জুলাইয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়া প্রেসিডেন্ট চ্যালেঞ্জ কাপ’ উপলক্ষে এই রেকর্ড বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। বাজেটের পরিমাণ ৬১ লাখ ৪১ হাজার ৩৯০ টাকা, যা অর্ধকোটি টাকারও বেশি।
ভার্চুয়াল সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। বাজেট অনুমোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ এজেন্ডা, ভবিষ্যৎ কর্মসূচি, বিভিন্ন টুর্নামেন্টে দল পাঠানো এবং জুরি চেয়ারম্যান নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।
প্রথমবারের মতো অর্ধকোটি টাকার বাজেট
সভা শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল এই ঐতিহাসিক বাজেটের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বড় অঙ্কের এই বাজেট মূলত যৌথ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও টুর্নামেন্ট—উভয় আয়োজনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল বলেন, ‘আমি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নতুন আঙ্গিকে এই প্রোগ্রামটি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবার আমরা বোর্ডে একটি অভাবনীয় বাজেট পেশ করেছি, যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার গত ৫০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো আয়োজনের জন্য অর্ধকোটি টাকার বেশি, অর্থাৎ ৬১ লাখ ৪১ হাজার ৩৯০ টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। গত চার বছরে যে পরিমাণ ব্যয় করা হয়েছে, তার তুলনায় এটি একটি বিশাল অর্জন।’
‘ওয়ান ভিশন, ওয়ান এশিয়া’ অভিযান
এশিয়ার আর্চারিকে বিশ্বমঞ্চে এক সুতোয় গাঁথার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন চপল। নিজের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়ান ভিশন, ওয়ান এশিয়া’ আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা এমন একটি সমমর্যাদার এশিয়া গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শুধু এক বা দুটি দেশ নয়, বরং সব দেশই সমানভাবে এগিয়ে যাবে। সবাই যেন কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’
এই দর্শনের অংশ হিসেবে এবারের যৌথ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী ৯টি দেশকে চার সেট করে বিনামূল্যে আর্চারি সরঞ্জাম দেওয়া হবে। সম্প্রতি ইয়েমেনকেও এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুটানসহ যেসব দেশের আর্থিক সামর্থ্য কম, তাদেরও সহযোগিতা করছে সংস্থাটি।
এছাড়া ওমান, মালদ্বীপ ও ব্রুনাই—এই তিনটি নতুন দেশ যুক্ত হওয়ায় ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সদস্যসংখ্যা ৪১ থেকে বেড়ে ৪৪-এ পৌঁছাতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। চপলের লক্ষ্য, তার মেয়াদকালে এশিয়ার প্রতিটি দেশকে আর্চারির আওতায় নিয়ে আসা।
প্রেসিডেন্ট চ্যালেঞ্জ কাপের বিশেষ আকর্ষণ
এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ‘প্রেসিডেন্ট চ্যালেঞ্জ কাপ’, যা চপল সভাপতি হওয়ার পর সম্পূর্ণ নতুন ধারণা হিসেবে চালু হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট চ্যালেঞ্জ কাপ উপলক্ষে আগামী ২৯ জুলাই থেকে বিভিন্ন দেশের দল বাংলাদেশে আসতে শুরু করবে। ৩০ জুলাই থেকে মূল কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে চলবে ২ আগস্ট পর্যন্ত। ৩ আগস্ট দলগুলো ঢাকা ত্যাগ করবে। ভেন্যু হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে নতুনভাবে সংস্কার করা টঙ্গী আর্চারি ট্রেনিং সেন্টার।
বিনামূল্যে খাদ্য ও আবাসন
টুর্নামেন্টটির বিশেষ দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—প্রতিটি দেশের ছয়জন খেলোয়াড়ের খাদ্য ও আবাসনের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়া। তবে শর্ত হলো, খেলোয়াড়দের মধ্যে ৫০ শতাংশ নারী এবং ৫০ শতাংশ পুরুষ থাকতে হবে। এছাড়া দলে অন্তত দুজন যুব আর্চার অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
আইওসি চার্টার অনুসরণ করে লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ছেলে ও মেয়েদের নিয়ে মিক্সড টিম গঠন করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের একজন পুরুষ আর্চারের সঙ্গে ভারতের একজন নারী আর্চারকে একই দলে রাখা হতে পারে।
তরুণ আর্চারদের অলিম্পিকের স্বপ্ন দেখাতে এবং খেলাটির প্রতি আগ্রহ বাড়াতে মেডেল ও উপহারের পাশাপাশি থাকছে প্রাইজমানিও।
মার্টিন ফ্রেডরিকের নেতৃত্বে প্রশিক্ষণ
প্রশিক্ষণ ক্যাম্পটি পরিচালনা করবেন বাংলাদেশের জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক। এছাড়া কাতার থেকে একজন অ্যান্টি-ডোপিং কর্মকর্তা, ইংল্যান্ডের কিমস হাসপাতালের প্রতিনিধি এবং স্পোর্টস ইনজুরি, পুষ্টিবিজ্ঞান, ফিজিওলজি ও স্পোর্টস সাইকোলজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে ভারত থেকে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম অংশ নেবে।



