বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরা চলমান ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধের পর ‘করিম শরীফ’ জলদস্যু গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে। শুক্রবার কোস্ট গার্ড মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
আটক ব্যক্তিরা
আটক ব্যক্তিরা হলেন বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মোঃ মেহেদী হাসান (২৫) ও মোঃ রমজান শরীফ (১৯) এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মোঃ ইনায়েত (২৫)।
জব্দকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম
আটকদের কাছ থেকে তিনটি সিঙ্গেল ব্যারেল বন্দুক, একটি দেশীয় পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড জীবন্ত কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের পেলেট, দুটি ওয়াকিটকি এবং চারটি ওয়াকিটকি চার্জার জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানের বিবরণ
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনে সক্রিয় জলদস্যু গ্যাং নির্মূলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সরাসরি নির্দেশনায় কোস্ট গার্ড ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবনস’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ডের পঞ্চম অভিযানে কোস্ট গার্ড গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে করিম শরীফ গ্যাংয়ের সদস্যরা বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন শ্যালা নদীর মোড়া চামিয়া খালের কাছে অবস্থান করছে। কোস্ট গার্ড বেস মোংলা এবং স্টেশন কোকিলমণি ১৩ মে বিকেল ৫টা থেকে ওই এলাকায় দুই দিনের অভিযান শুরু করে।
বন্দুকযুদ্ধ ও গ্রেফতার
কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে জলদস্যুরা গুলি চালায়, যার জবাবে কোস্ট গার্ড সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। পরে জলদস্যুরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া করে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা সুন্দরবনে জেলেদের ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের কথা স্বীকার করে। কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা আরও জানান, ১৩ মে বন বিভাগের সহায়তায় গ্যাংটির হাতে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করতে জলদস্যু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



