হকি আম্পায়ারিংয়ে বাংলাদেশের উজ্জ্বল সাফল্য: শাহবাজ আলীর পদোন্নতি
এশিয়ার হকি অঙ্গনে ভারত ও পাকিস্তানের দাপট সর্বজনবিদিত। খেলার মাঠে তাদের প্রভাব যেমন ব্যাপক, তেমনি আম্পায়ারিং ক্ষেত্রেও তাদের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দুজন আম্পায়ার আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করে চলেছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন সেলিম লাকী, অন্যজন শাহবাজ আলী। সম্প্রতি শাহবাজ আলী আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন থেকে একটি সুখবর পেয়েছেন, যা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্যানেলে পদোন্নতি ও নতুন সুযোগ
শাহবাজ আলী আন্তর্জাতিক প্যানেল থেকে পদোন্নতি পেয়ে হাই পটেনশিয়াল প্যানেলের আম্পায়ার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। সারা বিশ্ব থেকে মাত্র ১২ জন আম্পায়ার এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন, এবং উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই তালিকায় ভারত বা পাকিস্তানের মতো হকি শক্তিধর দেশের কোনো আম্পায়ার নেই। এই পদোন্নতির ফলে শাহবাজ আলী এখন অলিম্পিক, বিশ্বকাপ এবং কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় আসরে বাঁশি বাজানোর সুযোগ পাবেন।
এই সাফল্যের বিষয়ে শাহবাজ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আসলে আমি নিজের কাজটা ঠিকমতো করে গেছি। আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন সব দেখে শুনে আমাকে পদোন্নতি দিয়েছে। এখন বিশ্বকাপসহ বড় আসরে বাঁশি বাজাতে পারবো। এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের খবর। এখানে ভারত পাকিস্তানের কেউ নেই। এরপরই রয়েছে লিডিং প্যানেল। সেখানে যেতে সময় লাগবে। সেখানে অবশ্য ভারত পাকিস্তানের আম্পায়াররা আছেন।'
শাহবাজ আলীর অভিজ্ঞতা ও ক্যারিয়ার
শাহবাজ আলীর আম্পায়ারিং ক্যারিয়ার অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি ইতিমধ্যে বিশ্ব হকি লিগ, এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, এশিয়ান গেমস, সি গেমস, জুনিয়র এশিয়া কাপ, জুনিয়র বিশ্বকাপ এবং নেশন্স কাপ হকি টু-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে আম্পায়ারিং করেছেন। পুরান ঢাকার ছেলে শাহবাজের আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং ক্যারিয়ার প্রায় ৯ বছর ধরে চলছে, আর তার পুরো আম্পায়ারিং জীবন ১৮ বছরেরও বেশি সময় জুড়ে বিস্তৃত।
এই পদোন্নতি শুধু শাহবাজ আলীর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের হকি অঙ্গনের জন্য একটি মাইলফলক। এটি প্রমাণ করে যে দক্ষতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম।
