কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের পরাজয়ের পর এক তরুণ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আজ সোমবার সকালে কয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গট্রিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রতন (২০) ওই গ্রামের হোসেন মিস্ত্রির ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী ছিলেন এবং ব্রাজিলের সমর্থক ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
রোববার দিবাগত রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলে নরওয়ে ২–১ গোলে ব্রাজিলকে পরাজিত করে। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই খেলা দেখে আজ ভোরের দিকে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান রতন। সকালে দীর্ঘ সময় ঘুম থেকে না ওঠায় পরিবারের সদস্যরা জানালার ফাঁক দিয়ে তাঁকে ঘরের ভেতরে গলায় ওড়না প্যাঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে কুমারখালী থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করে।
পরিবারের বক্তব্য
রতনের বাবা হোসেন মিস্ত্রী বলেন, ‘ছেলে ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থক ছিল। গতকাল (রোববার) রাতে খেলায় ব্রাজিল হেরে যাওয়ার পর তাঁর মন খারাপ ছিল। এরপর নিজ ঘরে ঘুমাতে যায়। সকালে উঠতে দেরি হলে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় জানালা দিয়ে দেখতে পাই গলায় ওড়না দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট করে আত্মহত্যার কারণও বলতে পারছি না।’
স্বজনদের ভাষ্য, বছরখানেক আগে রতন বিয়ে করেন। বাড়ির পাশেই তাঁর শ্বশুরবাড়ি। কন্যাসন্তান হওয়ার পর থেকে তাঁর স্ত্রী সেখানেই আছে। ঘটনার সময় রতন ঘরে একাই ছিলেন।
পুলিশের মন্তব্য
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, একজন ব্যক্তি একটি দলকে সমর্থন করতেই পারে। তাই বলে পছন্দের দল হেরে যাওয়ায় আত্মহত্যা করেছে, এমনটাও নিশ্চিত নয়। নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্থানীয় ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফনের আবেদন করা হয়। মৃত্যুর বিষয়ে কারও কোনো আপত্তি না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।



