৪০ বছর বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক করে আলোচনায় এসেছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ভোজিনিয়া নামে পরিচিতি পেলেও তাঁর পুরো নাম জোসিমার ঝোজেহ এভোরা দিয়াশ। যে বয়সে একজন ফুটবলার অবসরে থাকেন, সেই বয়সে এসে নিজের দক্ষতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরলেন এই গোলরক্ষক।
জন্ম ও নামকরণের মজার গল্প
ভোজিনিয়ার জন্ম ১৯৮৬ সালের ৩ জুন, ঠিক সে সময় ফুটবল বিশ্বকাপের আসর বসেছিল মেক্সিকোয়। আর ভোজিনিয়ার জন্মের আগের দিন আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচে কিংবদন্তিতুল্য ফরোয়ার্ড হোর্হে ভালদানো জোড়া গোল করেন। তাই পরদিন ছেলের জন্ম হলে বাবা নাম দেন ভালদানো। কিন্তু দেশটির নাম নিবন্ধনের জটিল নিয়মের কারণেই সেই নাম রাখা সম্ভব হয়নি।
আর্জেন্টাইন ফুটবলারের নামে নাম রাখতে না পেরে ভোজিনিয়ার বাবা দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে বেছে নেন আরেক কিংবদন্তিতুল্য ফুটবলার ব্রাজিলের রাইটব্যাক জোসিমারের নাম। মেক্সিকোর সেই বিশ্বকাপে জোসিমার দারুণ খেলে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। তবে কেপ ভার্দের সেই ছোট্ট জোসিমার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিচিতি পান ভোজিনিয়া নামে। আর তাঁর এই ভোজিনিয়া নামটি নিয়েও আছে মজার ঘটনা।
ডাকনামের উৎপত্তি
তাঁর ডাকনামটি এসেছে দাদা-দাদির কাছ থেকে। ভোজিনিয়াকে বড়ও করেছেন তাঁর দাদা-দাদি। বাবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন আর মা ব্যস্ত ছিলেন সংসারের বাকি দিক সামলাতে। ফলে তাঁকে সামলাতেন দাদা-দাদি। আর পর্তুগিজ ভাষায় ভোজিনিয়া মানে ‘আদরের দাদু বা ছোট্ট দাদু’।
আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে, ভোজিনিয়া জন্মেছিলেন মেক্সিকো বিশ্বকাপের সময়। আর তিনি যখন প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এলেন, তখনও সহ–আয়োজক দেশ হিসেবে আছে মেক্সিকো।
ক্যারিয়ারের পথচলা
কেপ ভার্দের সাও ভিসেন্তে শহরে থাকেন ভোজিনিয়া। সেই শহর থেকে আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দ্বিতীয় সারির ক্লাবে খেলেছেন ভোজিনিয়া। অ্যাঙ্গোলার একটি ক্লাবে খেলার সময় সেখানে আরেক গোলরক্ষক পেয়েছিলেন, যার নামও জোসিমার। আর সে সময়ই তিনি জোসিমার-২ নামে পরিচিতির বদলে জার্সিতে নিজের ডাকনাম ভোজিনিয়া ব্যবহার করতে থাকেন।
ভোজিনিয়ার ছোট ভাই ডেলমিরোও কেপ ভার্দের জাতীয় দলে খেলছেন। স্বপ্নের মতো বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে গতকাল ভোজিনিয়া ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন। আর তারপরই কান্নায় ভেঙে পড়েন ভোজিনিয়া। স্মরণ করেন তাঁর দাদা-দাদিকে। যাঁরা কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন।
আবেগঘন মুহূর্ত
ভোজিনিয়া আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মা এখানে আসতে পারেননি ভিসার কারণে। ভিসার খরচের টাকা আমরা সময়মতো জোগাড় করতে পারিনি। চেয়েছিলাম, মা এখানে থেকে খেলাটা দেখুক।’
এত দিন অপেক্ষাকৃত অচেনা এক গোলরক্ষক হিসেবে খেললেও স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে রাতারাতি বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন ভোজিনিয়া। ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগে ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার ছিল ৫০ হাজার, আর ম্যাচ শেষে আজ ১৬ জুন বেলা দেড়টা পর্যন্ত সেটি গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ লাখ!
ভোজিনিয়ার ব্যক্তিগত জীবনও এখন আলোচনার বড় বিষয়। ইন্টারনেটে খোঁজা হচ্ছে তাঁর স্ত্রী/বান্ধবীকেও। তবে হতাশ হচ্ছেন ভক্তরা। কারণ, ভোজিনিয়ার জীবনসঙ্গীর কোনো হদিস এখনো মেলেনি। তাঁর ইনস্টাগ্রামের পোস্টেও তেমন কোনো ইঙ্গিত মেলে না।



