ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে টল, ডার্ক অ্যান্ড হ্যান্ডসাম ভিনিসিয়ুস আলাদা করেই নজর কাড়েন তাঁর খেলা ও ব্যক্তিত্বের কারণে। ভিনি জুনিয়রের এখনকার তারকাখ্যাতি ও বিলাসবহুল জীবন দেখলে অনেকেরই মনে হয় না তিনি অত্যন্ত স্ট্রাগল করে, পরিশ্রম ও অধাবসায়ের জোরে এই অবস্থানে এসেছেন।
শৈশবের সংগ্রাম
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা সাও গনসালোতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন ফুটবলার, কিন্তু ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়। ফলে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। ছোটবেলায় ভিনি প্রায়ই ক্ষুধার্ত থাকতেন এবং খেলার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে পারতেন না।
ফুটবলের প্রতি অদম্য ভালোবাসা
তবে ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অপরিসীম। তিনি রাস্তায় খেলে শিখেছেন, এবং মাত্র ১০ বছর বয়সে ফ্লামেঙ্গোর যুব একাডেমিতে যোগ দেন। সেখানে তাঁর প্রতিভা দ্রুত ফুটে ওঠে, কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে পরিবার তাঁকে সহায়তা করতে পারেনি। তবুও ভিনি হাল ছাড়েননি, বরং আরও কঠোর পরিশ্রম করতে থাকেন।
সাফল্যের পথে
১৬ বছর বয়সে তিনি ফ্লামেঙ্গোর মূল দলে জায়গা করে নেন এবং দ্রুত ব্রাজিলের ফুটবল জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদ তাঁকে ৪৫ মিলিয়ন ইউরোতে কিনে নেয়, যা একজন কিশোর ফুটবলারের জন্য রেকর্ড মূল্য ছিল। আজ তিনি রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিল জাতীয় দলের অন্যতম সেরা তারকা।
বিলাসবহুল জীবন ও স্নিকার্সের প্রতি আগ্রহ
বর্তমানে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। দামী দামী স্নিকার্সের বিশাল কালেকশনের জন্য তিনি বিখ্যাত। অনেকে বলে তাঁর ১২০ জোড়া রেয়ার স্নিকার্স আছে। আবার তিনি নিজেও জানেন না তাঁর স্নিকার্সের সঠিক সংখ্যা। তবে এই বিলাসিতা তাঁর সংগ্রামী অতীতকে ভুলিয়ে দেয় না। তিনি বলেন, 'আমি জানি দারিদ্র্য কী, তাই আমি কখনো ভুলি না আমি কোথা থেকে এসেছি।'



