ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলের সুবাদে ২-০ ব্যবধানের এই জয় নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে সরাসরি শেষ আটে উঠল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি।
হালান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়েরা একের পর এক সুযোগ নষ্ট করছিলেন। কিন্তু হালান্ডের সামনে সুযোগ মানেই যেন গোল। তিনি পাওয়া দুটি সুযোগই কাজে লাগিয়ে জোড়া গোল করেন। ম্যাচ শেষে হালান্ড বলেন, ‘সাধারণত এমনই হয়। আমি যদি একটি বা দুটি সুযোগ পাই, সেগুলো গোলে পরিণত হয়। কীভাবে করি, সেটা আমি নিজেও ঠিক জানি না। তবে সবকিছুর মূল হলো মনোযোগ ধরে রাখা। সুযোগ এলে সেটাকে কাজে লাগাতেই হয়।’
নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়
এই জয় নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্য। এর আগে বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল শেষ ষোলোতে ওঠা। এরপর টানা ছয়টি বিশ্বকাপ তারা দর্শক হিসেবেই কাটিয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবার সরাসরি শেষ আটে উঠে ইতিহাস গড়েছে দেশটি।
হালান্ড এই অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমার মনে হয়, নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে পাগলাটে এবং অবিশ্বাস্য রাতগুলোর একটি। আমি আশা করি, এই জয় আমাদের ফুটবলে অনেক পরিবর্তনের সূচনা করবে।’
ব্রাজিলের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ব্রাজিলের ফুটবল সংস্কৃতির প্রশংসা করে হালান্ড বলেন, ‘আমরা ব্রাজিলের কাছ থেকে শিখতে পারি। হয়তো তাদের মতো হুবহু নয়, কিন্তু দেশের হয়ে খেলার যে গর্ব তারা অনুভব করে, সেটি আমাদের মধ্যেও থাকা উচিত। নরওয়ের প্রতিটি শিশুর স্বপ্ন হওয়া উচিত জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।’
দলের লড়াকু মানসিকতারও প্রশংসা করেন এই স্ট্রাইকার। তিনি বলেন, ‘আমরা ভয়ডর ভুলে বুক চিতিয়ে খেলেছি এবং মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। যারা এই সাক্ষাৎকার দেখছ, আশা করি বড় হয়ে তোমরাও নরওয়ের হয়ে খেলতে চাইবে এবং এটিকে জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব হিসেবে দেখবে। এই মুহূর্ত সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
সমর্থকদের ভাইকিং উদযাপন
বিশ্বকাপে এবার নরওয়ের প্রতিটি জয়ের পরই সমর্থকদের ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং’ উদযাপনে মেতে উঠতে দেখা গেছে। ব্রাজিলকে হারানোর পরও গ্যালারিতে দীর্ঘ সময় ধরে হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ডদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গান গেয়েছেন সমর্থকেরা। দেশের মানুষের সেই আনন্দের অংশ হতে না পারার আক্ষেপ ঝরেছে হালান্ডের কণ্ঠে।
তিনি বলেন, ‘ইশ, যদি এখন দেশের রাস্তায় সমর্থকদের সঙ্গে থাকতে পারতাম! আমিও যদি সেই আনন্দে শামিল হতে পারতাম। সবাইকে বলব, এই মুহূর্তটা প্রাণভরে উপভোগ করুন। পুরো নরওয়েরই এখন উদযাপন করার সময়। আমার বিশ্বাস, এটি আমাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দিন।’



