প্রায় তিন দশক ধরে এমন একটি রেকর্ড বয়ে বেড়াচ্ছে নরওয়ে, যা এখনো বদলাতে পারেনি ব্রাজিল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ২-১ গোলে হারানো নরওয়ে দলের সদস্য ছিলেন বর্তমান কোচ স্তালে সোলবাক্কেন। সেই জয় এখনো বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের একমাত্র জয় হলেও দুই দলের ইতিহাসে সেটিই সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়।
আজকের ম্যাচে রেকর্ড দীর্ঘায়িত করার সুযোগ
সোমবার নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে আবারও ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছেন সোলবাক্কেন। তবে এবার খেলোয়াড় হিসেবে নয়, ডাগআউটে দাঁড়িয়ে। আর তার সামনে সুযোগ রয়েছে এই রেকর্ড আরও দীর্ঘায়িত করার। ম্যাচটা রবিবার রাত ২টায় সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।
এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। তার মধ্যে দুটি ম্যাচ জিতেছে নরওয়ে, বাকি দুটি ড্র। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ফুটবলে নরওয়েই একমাত্র দল, যাদের বিপক্ষে ব্রাজিল এখনও জয় দেখেনি! রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে থাকা কার্লো আনচেলত্তির দল তাই এবার এই আক্ষেপ ঘোচাতে মরিয়া।
হাল্যান্ডের পাশাপাশি আরও বিপজ্জনক খেলোয়াড়
নরওয়ের শক্তি বলতে অনেকেই শুধু আর্লিং হাল্যান্ডকে বোঝেন। তবে ব্রাজিল ফরোয়ার্ড মাতেউস কুনহার মতে, প্রতিপক্ষকে শুধু হাল্যান্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখলে ভুল হবে। তিনি বলেন, ‘হাল্যান্ড অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। জার্মানিতে খেলার সময় যেমন নিজেকে প্রমাণ করেছে, ইংল্যান্ডেও সেটি করে যাচ্ছে। তার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমাদের পুরো দলটিকেই গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের দলে আরও অনেক বিপজ্জনক ফুটবলার আছে, যাদের অনেকেই ইংল্যান্ডে খেলেন। এই পর্যায়ে নরওয়ে আমাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষগুলোর একটি।’
আনচেলত্তির দুশ্চিন্তা ও দল নির্বাচন
এই ম্যাচে দল নির্বাচন নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আনচেলত্তি। জাপানের বিপক্ষে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে ছিটকে গেছেন লুকাস পাকেতা। ফলে মাঝমাঠে পরিবর্তন আনতেই হবে ব্রাজিল কোচকে। এছাড়া নকআউট পর্বে এখনো এক মিনিটও না খেলা নেইমারকে একাদশে ফেরানো হবে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।
অবশ্য আক্রমণভাগে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দুই সপ্তাহ পর অনুশীলনে ফিরেছেন রাফিনহা। তবে তার অনুপস্থিতিতে দারুণ পারফর্ম করা রায়ানের কারণে একাদশ নির্বাচন নিয়ে মধুর সমস্যায় পড়েছেন আনচেলত্তি। তাই ব্রাজিলের জন্য এই ম্যাচ শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়। এটি ২৮ বছরের আক্ষেপ ঘোচানোর মিশনও।



