নিউজিল্যান্ডের ডিফেন্ডার টাইলার বাইন্ডন ও তাঁর মা জেনি বাইন্ডন প্রথম মা-ছেলের জুটি হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়েছেন। ১৫ জুন ইরানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ২১ বছর বয়সী টাইলার। গ্যালারিতে বসে ছেলের সেই স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত দেখছিলেন তাঁর মা, নিউজিল্যান্ড নারী দলের সাবেক গোলরক্ষক জেনি বাইন্ডন।
ইতিহাসের সাক্ষী মা-ছেলে
বিশ্ব ফুটবলে প্রথমবারের মতো একই পরিবারের মা ও ছেলে বিশ্বকাপে খেলার নজির গড়লেন। যদিও দুজনের খেলার বছর ভিন্ন। জেনি বাইন্ডন ২০০৭ ও ২০১১ সালের নারী ফিফা বিশ্বকাপে খেলেছেন। তিনি মা হওয়ার পরই এই দুই বিশ্বকাপে অংশ নেন। এ ছাড়া ২০০৮ ও ২০১২ সালের অলিম্পিক গেমসেও খেলেছেন তিনি।
মায়ের পথ ধরেই ছেলের বিশ্বকাপ
টাইলার বাইন্ডন ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ড পুরুষ জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপই ছিল তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ। জেনি বাইন্ডন নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে ৭৭টি ম্যাচ খেলেছেন। সেই একই জার্সিতে ছেলেকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখাটা ছিল অসাধারণ বলে মনে করেন তিনি।
অনুভূতি ভাগ করে নিলেন টাইলার
ইতিহাস গড়ার পর নিজের ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে টাইলার লিখেছেন, ‘অনেক কারণেই আজকের দিনটি বিশেষ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। আর বিশ্বকাপে খেলা প্রথম মা-ছেলের জুটি হিসেবে এই মুহূর্তটি আমার মায়ের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে দারুণ কৃতজ্ঞ।’
মুহূর্তটি স্মরণ করে জেনি বলেন, ‘সে আমার কাছে এসে শুধু আমার হাতটা ধরল এবং বলল, “আমরা পেরেছি, মা।” তখনই বিষয়টি সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করলাম। এটা সত্যিই অসাধারণ। মা ও ছেলে দুজনই বিশ্বকাপে খেলেছে। এমন ঘটনা তো সচরাচর ঘটে না।’
বিশ্বকাপের গল্প জয়-পরাজয়ের নয়
বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের যাত্রা প্রত্যাশামতো দীর্ঘ হয়নি। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে। তবে টাইলার ও জেনি বাইন্ডন প্রমাণ করে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে সব গল্পই জয়-পরাজয়ের নয়। কখনো কখনো একটি মুহূর্তই পরিণত হয় ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর গল্পে।



