ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ বজ্রপাতের শঙ্কায় দুই ঘণ্টা স্থগিত, এমবাপ্পের জোড়া গোলে জয়
ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ বজ্রপাতের শঙ্কায় দুই ঘণ্টা স্থগিত

ফ্রান্স–ইরাক ম্যাচ বজ্রপাতের শঙ্কায় প্রায় দুই ঘণ্টা স্থগিত ছিল। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় শুরু হলেও শেষ বাঁশি বাজে রাত ৮টা ৪৭ মিনিটে। বিরতিসহ ৯০ মিনিটের ম্যাচ শেষ হতে দ্বিগুণ সময় লেগেছে।

খেলা বন্ধের কারণ ও সময়

প্রথমার্ধ শেষের দিকে আকাশের চেহারা বদলাতে শুরু করে। ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আভাসে নিরাপত্তার কারণে ম্যাচ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ লকার রুমে বসে থাকেন। ক্রিকেটের মতো ব্যাটিং দলের খেলোয়াড়দের দীর্ঘ সময় ড্রেসিংরুমে বসে থাকার অভ্যাস থাকলেও ফুটবলে বিষয়টা ভিন্ন। মিনিট পনেরোর বিরতিতে অভ্যস্ত ফুটবলারদের টানা দুই ঘণ্টার বেশি সময় এক জায়গায় আটকে থাকতে হয়েছে।

এমবাপ্পের অভিজ্ঞতা

ম্যাচ শেষে ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে বলেন, ‘সন্ধ্যাটা খুব দীর্ঘ ছিল। আমরা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছি। মানসিক ও আবেগিক দিক থেকে এটা খুব ক্লান্তিকর ছিল। কারণ, ড্রেসিংরুমে বসে থেকেও পুরো মনোযোগ ধরে রাখতে হয়েছে।’ এমবাপ্পে ম্যাচটিতে দুটি গোল করেন—একটি খেলা বন্ধের আগে, আরেকটি পুনরায় চালু হওয়ার পর।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোচ ও খেলোয়াড়দের করণীয়

সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমের প্রথম উত্তর ছিল মজার—‘তাস খেলেছি।’ পরে জানান, বারবার খেলা শুরুর সময় পিছিয়ে যাওয়ায় অপেক্ষাতেই কেটেছে পুরো সময়। তিনি বলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলাম। আড্ডা দিয়েছি, মজা করেছি। এখানে নিরাপত্তার বিষয় জড়িত। বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সঙ্গে তো লড়াই করা যায় না। ঝুঁকি না নেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফ্রান্সের ডিফেন্ডার জুলস কুন্দে জানান, শরীর সচল রাখতে তাঁরা কিছুটা সাইক্লিং করেছেন। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন বিরতির পর নতুন একটা ম্যাচ শুরু হচ্ছে। আমরা কিছুটা সাইক্লিং করেছি, তারপর বসে গল্প করেছি। সবাই চেয়েছিল ম্যাচটা শেষ করতে। তবে মাঠ খেলার উপযোগী কি না, সেটাও নিশ্চিত হতে হতো। কারণ, কিছু জায়গায় পানি জমে গিয়েছিল।’ প্রায় এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর খেলোয়াড়েরা মাঠে নেমে ওয়ার্মআপ শুরু করেন।

দর্শকদের অবস্থা

বৃষ্টির সময় দর্শকদেরও গ্যালারি ছেড়ে স্টেডিয়ামের নিরাপদ অংশে আশ্রয় নিতে বলা হয়। লাউডস্পিকারে নিয়মিত ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতির খবর জানানো হচ্ছিল। পরে আবহাওয়ার ঝুঁকি কেটে গেলে স্টেডিয়ামজুড়ে উল্লাসধ্বনি ওঠে। বৃষ্টির মধ্যে রেইনকোট পরে নাচতেও দেখা যায় অনেক সমর্থককে।

ইরাকের প্রতিক্রিয়া

ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড দাবি করেন, দীর্ঘ বিরতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তাঁর দলের ওপর। তিনি বলেন, ‘খেলা আবার শুরু হওয়ার আগে আমি খেলোয়াড়দের বলেছিলাম, মানসিকভাবে কে বেশি প্রস্তুত থাকতে পারে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের একটি ভুল বড় মূল্য চুকিয়েছে।’ ৬২ বছর বয়সী এই কোচ জানান, তাঁর পুরো ক্যারিয়ারে কখনো এত লম্বা সময় বসে থাকার অভিজ্ঞতা হয়নি। ইরাক বিরতির সময় ভিডিও বিশ্লেষণে সময় কাটিয়েছে। প্রথমার্ধের ফুটেজ দেখে ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন কোচিং স্টাফ। আর্নল্ডের ভাষায়, ‘খেলোয়াড়দের যতটা সম্ভব শান্ত ও স্বস্তিতে রাখার চেষ্টা করেছি। আমাদের সবার জন্যই এটা ছিল একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা।’

ম্যাচের ফলাফল

নতুন অভিজ্ঞতায় ভালোভাবে উতরে গেছে ফ্রান্স। বিরতির আগে ১–০ গোলে এগিয়ে থাকা দলটি পরে আরও দুটি গোল করে ৩–০ ব্যবধানে জিতেছে। এমবাপ্পের জোড়া গোলের পাশাপাশি আরেক গোল করেন অ্যান্তোইন গ্রিজম্যান।